চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা চাইলো চলচ্চিত্র পরিবার

করোনায় বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণ ও সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের কাছে পাঁচশো কোটি টাকা প্রণোদনা চাইলো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠন।

করোনার কারণে স্থবির চলচ্চিত্র শিল্প। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুটিংয়ের পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো ও। চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের রোজগারের পথও বন্ধ। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদল করছেন। এমতাবস্থায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সরকারের কাছে প্রণোদনা চাইলো চলচ্চিত্র পরিবার।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষার লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে এফডিসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ১৮ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেখানে চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজানের স্বাক্ষর করা চলচ্চিত্র পরিবারের বিবৃতি পাঠ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, করোনার ভয়াবহ সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প। চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং প্রদর্শন সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ড প্রায় ৫ মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাদের জীবন ও জীবিকা এক অনিশ্চিত ও অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারো কোন কাজ নেই তাই কারো কোন আয় নেই। তাই অনেকেরই বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরকম অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে চলচ্চিত্রে কর্মরত মানুষদের সাথে সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

সঙ্কট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ সরকারের বিশেষ নজর ও প্রণোদনা। এমনটা জানিয়ে ১৮ সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা পারেন, জাতির পিতার হাতে গড়া এই চলচ্চিত্র শিল্প এবং এর সাথে জড়িত হাজার হাজার পেশাজীবি এবং তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে। জনদরদী, মানবতার মাতা এবং আধুনিক ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষা করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি। তাই আজ আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করবো।

চলচ্চিত্র পরিবারের প্রস্তাবগুলো হলো:
এক. দেশের অন্যান্য শিল্প এবং শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের রক্ষার জন্য যেভাবে সরকারি প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে সেভাবে চলচ্চিত্র শিল্প এবং এই শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের রক্ষা করার জন্য সরকারি প্রণোদনা দেয়া হোক।

দুই. আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে রক্ষা করতে সরকারি বাজেট থেকে কমপক্ষে ৫০০(পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হোক। এই ৫০০ (পাঁচশত) কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি বিএফডিসির মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেয়া হোক। ১০০ কোটি টাকা দেয়া হোক যারা নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, সেসব প্রযোজকদেরকে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হোক নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও পুরনো প্রেক্ষাগৃহগুলি সংস্কার করার জন্য।

তিন. গভীরভাবে এই চলচ্চিত্র শিল্পকে জানেন, বোঝেন, ভালবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চলচ্চিত্রকে নিয়ে করা পরিকল্পনাকে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে যিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন এমন কাউকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হোক।

চার. স্বাস্থ্যবিধি মেনে অচিরেই সিনেমা হল খোলার অনুমতি প্রদান করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। তাহলে প্রযোজকরা নতুন করে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।