চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৪২ লক্ষাধিক পপুলার ও ৫০ ইলেকটোরাল ভোটে এগিয়ে জো বাইডেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় গড়িয়ে গেলেও এখনো ঘোষণা করা হয়নি চুড়ান্ত ফলাফল, ঘোষণা হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামও।

গত ৩ নভেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে ভোট গণনা চলছে। বিশেষ করে ডাকযোগের ভোটগুলো গণনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের।

বিজ্ঞাপন

এবার একশ বছরের মার্কিন ইতিহাসে সর্বাধিক ডাকযোগের ভোট দিয়েছেন ভোটারেরা। এই সংখ্যাটি ১০ কোটির বেশি। মোট ১৬ কোটি মার্কিনি ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনের দিন ভোট গণনা শেষ না হওয়ার আগেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও ডাকযোগের ভোটে স্পষ্টতই তিনি পিছিয়ে ছিলেন। এই ভোটগুলো গণনা করার সাথে সাথে পিছিয়ে পড়েন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজ বলছে, শনিবার বেলা ১২টা পযন্ত বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে স্পষ্টতই এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন। পপুলার বা সাধারণ ভোটারদের ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ ভোট এবং ৫০টি ইলেকটোরাল ভোটে এগিয়ে বাইডেন। বাইডেন মোট পপুলার ভোট পেয়েছেন ৭ কোটি ৪৮ লাখ ১১ হাজার ৩৭৮ টি। আর ইলেকেটারাল ভোট পেয়েছেন ২৬৪টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প মোট পপুলার ভোট পেয়েছেন ৭ কোটি ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ ভোট এবং ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন ২১৪টি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য মূলত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট গুরুত্বপূর্ণ নয়। ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর মধ্য থেকে ২৭০টি ইলেকেটারাল ভোট যিনি পাবেন তিনিই হবেন প্রেসিডেন্ট।

এখন পযন্ত ৫টি অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট এর চূড়ান্ত ফল ঝুলে আছে। এই ৫টি অঙ্গরাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে যথাক্রমে-অ্যারিজোনা-১১, নর্থ ক্যারিলোনা-১৫, নেভাডা-৬, জর্জিয়া-১৬ এবং পেনসেলভেনিয়া-২০টি।

বিবিসি নির্বাচন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এর মধ্য  অ্যারিজোনা, নর্থ ক্যারিলোনা, নেভাডা ও জর্জিয়া থেকে যেকোনো দুটি কিংবা শুধুমাত্র পেনসেলভেনিয়ায় বিজয়ী হলেই জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিশ্চিত হয়ে যাবেন।

অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে হলে অ্যারিজোনা, নর্থ ক্যারিলোনা, নেভাডা ও জর্জিয়া থেকে ৩টিতে জিততে হবে সেই সঙ্গে জিততে হবে পেনসেলভেনিয়াও।

বিজ্ঞাপন

শেষ খবর পাওয়া পযন্ত  পেনসিলভানিয়ায় বাইডেন ২৮,৮৮৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এই রাজ্যে জিতলে ২০টি ইলেকটোরাল ভোট জিতে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করবেন বাইডেন।

অ্যারিজোনাতেও ব্যবধান একই ধরণের, সেখানে ২৯,৮৬১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। নেভাডাতেও বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন ২২,৬৫৭ ভোটে।

জর্জিয়াতে বাইডেন এগিয়ে থাকলেও অন্য রাজ্যগুলোর মত সেখানে ব্যবধান এত বেশি নয়। জর্জিয়ায় দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ৪,৩৯৫ ভোটের। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন জর্জিয়ায় ভোট পুনর্গণনা করা হবে।

ভোট পুনর্গণনা করে যদি এই রাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে গেলেও ফলাফলে তেমন পরিবর্তন আসবে না। কার্যত সকল হিসাব বলছে, আগামীর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন স্পষ্টতই এগিয়ে আছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প নেই।

গতকাল এক ভাষণে শুক্রবার রাতে এক বক্তব্যে জো বাইডেন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করলেও বিজয়ের ঘোষণা দেননি।

তিনি বলেছেন, আমরাই নির্বাচনী দৌড়ে জিততে যাচ্ছি। সবচেয়ে পরিস্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে, পুরো জাতি আমাদের সঙ্গে আছে।

ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে দেওয়া ভাষণে বাইডেন বলেন, আমরা ৭৪ মিলিয়নেরও বেশি ভোট পেয়েছি।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেকোনো প্রেসিডেন্টের থেকে বেশি ভোট পেয়েছি আমরা।

অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ভোট  কারচুপির অভিযোগ করেই যাচ্ছেন এবং সুপ্রিমকোর্টে যাওয়ার হুমকি দিয়ে চলেছেন।

যদিও ভোট কারচুপির সকল আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান দলের সিনেটরেরাই।