চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৩ হাজার ৯৫৪দিন পর উডসের শিরোপা হাতে ফেরা!

শেষ শিরোপা জিতেছিলেন ২০০৮ সালে। পরের শিরোপা জিততে টাইগার উডসকে অপেক্ষা করতে হল ৩ হাজার ৯৫৪ দিন! বছরের হিসেবে সময়টা ১১ বছর। এই সময়ের মধ্যে নিজের প্রথম ও ক্যারিয়ারের ১৫তম মেজর জিততে সাবেক নাম্বার ওয়ান গলফারকে যেতে হয়েছে পাহাড় সমান উত্থান-পতনের মাঝে।

আর কখনো ফেরা হবে কিনা তাই নিয়ে শত শঙ্কা। সবকিছু পেছনে ফেলে তাই অগাস্টায় যখন শিরোপা উঁচিয়ে ধরছেন তখন মুখ ভর্তি হাসির সঙ্গে উডসের চোখে মিশে থাকল অজস্র বেদনাও!

এই ১১ বছরে কী করেননি উডস। ২০০৮ সালে নিজের ১৪তম মাস্টার্স শিরোপা যখন জিতলেন, কোথায় গিয়ে থামবেন তখন এই নিয়েই ছিল জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু সব কিছু যেন উড়ে গেল এক নিমিষে। কোথা থেকে এক ঝড় এসে তছনছ করে দিয়ে গেল সর্বোচ্চ সংখ্যক মেজর জেতা গলফারের জীবন!

ক্রীড়াবিশ্বে প্রথম বিলিয়নিয়ার হওয়ার কীর্তি উডসের। আবার একবারে হিরো থেকে জিরো হওয়ার অন্যতম উদাহরণও মার্কিন এই গলফার।

সুন্দরী স্ত্রী এলিন নরডগ্রেন ও দুই সন্তানকে নিয়ে গড়ে তোলা পরিবারকে যখন বলা হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পরিবার, ঠিখ তখনই ২০০৯ সালে এক দুর্ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসে উডসের আসল রূপ। তার দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে থাকে একের পর এক গোপন প্রণয়ের দলিল। ফল, সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছেদ। স্ত্রী এলিন শুধু গেলেনই না, সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন উডসের সম্পত্তির বিশাল এক অংশও!

সংসার জীবনে এমন ঝড়ের পর সব ভুলে সামনে এগোতে চেয়েছিলেন উডস। কিন্তু বাদ সাধে শরীর। পিঠের চোটের এতটাই কাবু যে এর কারণে চারবার যেতে হয় ছুরির নিচে। যখন ফিরলেন, কোর্টের খেলা দেখাই বোঝা গেল না একি উডস নাকি তার অপভ্রংশ!

বয়স চলছে ৪৩, সঙ্গে চারবার বড় রকমের অস্ত্রোপচারের ধাক্কা। উডসের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে ভেবেছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেখান থেকেই ফিরলেন উডস, তাও ক্রীড়াবিশ্বে বড় রকমের ধাক্কা মেরে!

বয়সের সঙ্গে ফর্ম মিলিয়ে যে অবস্থাতে ছিলেন উডস, সেখান থেকে এই শিরোপা জয়কে বলা হচ্ছে ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের গল্প। কারণ পিঠে এত অস্ত্রোপচারের পর যার কিনা সোজা হয়ে দাঁড়ানোই দায়, তিনিই কিনা জিতে ফেললেন শিরোপা। তাও আবার মেজর! বড় প্রত্যাবর্তনই তো!

যেই অগাস্টা মাস্টার্সে সবশেষে শিরোপা জিতেছিলেন ২০০৫ সালে, সেই টুর্নামেন্ট ভরিয়ে দিল উডসের হাত। পারের চেয়ে ১৩ শট কম খেলে শিরোপা জেতার পর ভেতরের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেনি। দুই হাত তুলে করেছেন চিৎকার, কেঁদেছেন শিশুর মত! বাবার এমন উল্লাস দেখে হেসেছে-কেঁদেছে মাঠে খেলা দেখতে আসা তার সন্তানেরাও।

পরে নিজেই স্বীকার করেছেন উডস, আবেগকে বশ মানাতে পারেননি। এভাবে ফিরে আসার পর অবশ্য আবেগ ধরে রাখা কঠিনও, ‘আমি যখন চিৎকার করছিলাম সেটা বেশ কর্কশ শোনাচ্ছিল। আমি চাইছিলাম শুধু আমার খেলাটাকে ধরে রাখতে কিন্তু দিন শেষে দেখা গেল আমি সবার শীর্ষে!’

‘আজ চক্রটা পূর্ণ হল। আমার সন্তানেরা খেলা দেখতে এসেছিল। ১৯৯৭ সালে আমার বাবা এখানে খেলা দেখতে এসেছিলেন। আজ আমি বাবা, আমার সন্তানেরা এখানে!’

‘জীবনে শিরোপা জিততে কখনোই এত কষ্ট করতে হয়নি। মাঝের সময়টা আমার কীভাবে গেছে সেটা কেবল আমি ছাড়া আর কেউ জানে না।’