চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শহীদ মিনার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ‘অদম্য পদযাত্রা’ ২৬ মার্চ

প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অভিযাত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা-২০২১’।

করোনা মহামারির মাঝে এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পদযাত্রার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এবারের ইভেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেছে অভিযাত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালে একদল অভিযাত্রী দেশের মুক্তির লক্ষ্যে ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা’য় হেঁটে স্থাপন করেছিলেন অসামান্য দৃষ্টান্ত। এই প্রজন্মের আরেকদল অভিযাত্রী ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ মার্চ ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পদযাত্রা করে আসছে।

২০১৬ সাল থেকে এই পদযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

আয়োজন নিয়ে অভিযাত্রী সদস্য মির্জা জাকারিয়া বেগ বলেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতির বীর সন্তানেরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে না খেয়ে মাঠে ঘাটে মাইলের পর মাইল হেঁটেছে। পারি দিয়েছে জলপথ। দেশমাতাকে মুক্ত করতে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা স্থাপন করেছে ত্যাগের অপার মহিমা। একাত্তরের সেই উত্তাল সময়কে কিছুটা হলেও অনুভবের জন্য আমাদের এই পদযাত্রা। এই অনুভবে আমরা যদি দেশকে আরেকটু বেশি ভালবাসি, আরেকটু মানবিক হয়ে উঠি, সেই হবে আমাদের পরম পাওয়া। তাই আমাদের এই অদম্য পদযাত্রা নিবেদিত দেশ ও দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, শহীদ মিনার থেকে সকালে শুরু হয়ে আমাদের শোক, সাহস আর গৌরবের স্থানগুলো স্পর্শ করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শেষ হবে অদম্য এই পদযাত্রা।

বিগত কয়েক বছরে ঢাকা ছাড়াও জামালপুর এবং মুজিবনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে অদম্য পদযাত্রা। এবার ঢাকার পাশাপশি পাবনাতেও অনুষ্ঠিত হবে অদম্য পদযাত্রা।

বিজ্ঞাপন

মির্জা জাকারিয়া বেগ বলেন, আজ যে আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি, আমাদের রাষ্ট্রভাষা যে বাংলা, তার জন্য যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করেছে বাঙালি, বিসর্জন দিয়েছে প্রাণ। ৫২ তে আমাদের ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এরপর থেকে পাকিস্তানীদের আর কোন অন্যায়ের প্রতি আপোষ করেনি বাঙালি; ৫২’র চেতনার পথ ধরেই এসেছে ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০ আর গর্বের ৭১। ৫২ চেতনা থেকেই শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা শুরু করে একাত্তরে যে আমাদের অর্জন স্বাধীন দেশ তারই নিদর্শন জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে আমাদের পদযাত্রা।

তিনি জানান, বহুজনের অংশগ্রহণে দেশ ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানানোর এই অদম্য পদযাত্রা, সেটি এক কিলোমিটারের জন্য হলেও, মানুষকে আরো অনুপ্রাণিত ও মানবিক করে তুলবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও পদযাত্রায় অংশ নেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

গত বছর করোনা মহামারির কারণে পদযাত্রা স্থগিত হয়েছিল। এ বছর মুজিব শতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এবারের শোক থেকে শক্তি অদম্য পদযাত্রা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অভিযাত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

বরাবরের মতো এবারও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে। সেখান থেকে ইতিহাসের পথ ছুঁয়ে ছুঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-দিয়াবাড়ী ঘাট-সাদুল্লাপুর ঘাট-কলমা গ্রাম-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে পদযাত্রা। পদযাত্রা শেষে দেশ ও শহীদদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হবে তারুণ্যের দৃপ্ত শপথ।

পাবনার পদযাত্রা ভাঙ্গুড়া শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হবে সকল ৭টায়। মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলার পদযাত্রা ভেড়ামারায় একত্রিত হয়ে বড়বিলা বিল হয়ে হাদল গ্রামের গণহত্যার জায়গায় গিয়ে শেষ হবে।

ইভেন্ট লিংক:
https://www.facebook.com/events/463764944782380/