চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

২৩ বছর আগের স্মৃতি ফেরাল অস্ট্রেলিয়া-উইন্ডিজ

অজিদের কাছে ক্যারিবীয়দের হার ১৫ রানে

Nagod
Bkash July

১৯৯৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। কার্টলি অ্যামব্রোস ও ইয়ান বিশপ তোপে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ফিফটি তুলে কোনরকমে দলকে ২০৭ রানে সংগ্রহ পাইয়ে দেন স্টুয়ার্ট ল ও মাইকেল বেভান। তবে অজিরা বোলিংয়ে নামতেই পাল্টে যায় সব হিসেব-নিকেশ। দারুণ শুরুর পরও শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণিতোপে শেষপর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটা হেরে যায় মাত্র ৫ রানে।

Reneta June

২৩ বছর আগের সেই স্মৃতিই যেন ফিরে এলো ট্রেন্টব্রিজে। ২০১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৪ উইকেট গেল কেবল ৩৮ রানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভরাডুবি ঘটল না স্টিভেন স্মিথ ও নাথান কোল্টার-নাইলের কল্যাণে। দুজনের ফিফটিতে উইন্ডিজের জন্য ২৮৯ রানের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে অস্ট্রেলিয়া।

সেই পথ পেরোতে কোমর বেঁধে ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরু করেও শেষটা রাঙাতে পারেনি উইন্ডিজ। অনেকটা সময় ঠিক পথে এগিয়েও ১৫ রানে হেরে গেছে ক্যারিবীয়রা। ঠিক যেন ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি!

দুইযুগ আগের মতই এবারও উইন্ডিজের শুরুটায় আশা-নিরাশা থাকল। দ্বিতীয় ওভারেই মিচেল স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ওপেনার এভিন লুইস (১)। দুই ওভার বাদে আরেক বিধ্বংসী ওপেনার ক্রিস গেইল (২১) যখন ফিরছেন, উইন্ডিজের ব্যাংকে জমা মাত্র ৩১।

সেখান থেকে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন শাই হোপ ও নিকোলাস পুরান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৬৮ রান। ২০তম ওভারে এসে ৪০ রান করা পুরানকে অ্যারন ফিঞ্চের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ৯৯।

ঠিক ৫০ রান বাদে ফিরে যান ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান শাই হোপ। ফেরার আগে পেয়েছেন নিজের ১১তম ফিফটি। ৬৮ করতে গিয়ে অবশ্য ১০৫ বল খেলেছেন হোপ।

হোপ বল খরচ করায় খানিকটা চাপেই পড়ে যায় উইন্ডিজ। চাপের সুযোগ বুঝে দ্রুত দুই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ার ও আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। ২১ রান করা হেটমায়ার সাজঘরে ২১ রানে। ১৫ রান করা রাসেলের দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে স্টার্কের উইকেট বাড়িয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ক্যারিবীয়রা তাদের ষষ্ঠ উইকেট হারায় ২১৬ রানে।

ম্যাচসেরা কোল্টার-নাইল

বিপর্যয়ের ওই সময়ে ৫১ রান করে একপ্রান্ত সামলে রেখে দলকে জয়ের পথেই রেখেছিলেন অধিনায়ক হোল্ডার। ৪৬তম ওভারে তাকে ও ব্র্যাথওয়েটকে ফিরিয়ে উইন্ডিজদের জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন স্টার্ক।

শেষ ওভারে তাই কোল্টার-নাইলের বলে অ্যাশলে নার্স টানা ৪ বলে চারটি চার হাঁকালেও ২৭৩ রানেই থামতে হয়েছে ক্যারিবীয়দের।

৫ উইকেট নিয়েছেন অজিদের সেরা পেসার স্টার্ক। আরেক পেসার প্যাট কামিন্স নিয়েছেন ২ উইকেট।

অথচ এই অস্ট্রেলিয়া এতদূর এগোবে সেটা শুরুর ৮ ওভার শেষে ভাবাই যায়নি! সেই ওভারের চতুর্থ বলে শেলডন কটরেলের শর্ট বলে উইকেটরক্ষক হোপের হাতে ধরা পড়ে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে খালি হাতে সাজঘরের পথ ধরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

অজিদের সংগ্রহ তখন মাত্র ৩৮। তার আগে ক্যারিবীয়দের শর্ট বলে কাত হয়ে ফিরে গেছেন ডেভিড ওয়ার্নার (৩), অ্যারন ফিঞ্চ (৬) ও উসমান খাজা (১৩)।

বিপর্যস্ত অবস্থায় একজন কাণ্ডারির খোঁজে যখন মরিয়া, তখন ত্রাতা স্টিভেন স্মিথ। প্রমাণ করেন বল টেম্পারিং-কাণ্ডের পরও কেনো তাকে দলে পেতে মরিয়া ছিলেন নির্বাচকরা!

অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও রানের চাকা ঠিকই সচল রেখে গেছেন স্মিথ। প্রথমে স্টইয়নিসকে নিয়ে ৫১, পরে অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে যোগ করেন ৬৮ রান। উইকেটে থিতু হওয়ার পর স্মিথ-ক্যারি দুজনেই রান তুলেছেন সমান তালে।

ফিফটি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে ক্যারিকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভেঙে দেন রাসেল। অন্যপ্রান্তে স্মিথ তখন নিঃসঙ্গ যোদ্ধা!

তবে স্মিথ শেষপর্যন্ত একা থাকেননি। সত্যিকার অর্থেই তাকে সঙ্গ দিয়েছেন অলরাউন্ডার নাথান কোল্টার-নাইল। কোল্টার-নাইল যখন একপ্রান্তে আক্রমণ করছেন, অন্যপ্রান্তে স্মিথ তখন ছুটিচ্ছেন ব্যাটিং সৌন্দর্যের ফুলঝুরি। ১৪ মাস বাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে পান ২০তম ফিফটির দেখা। যেভাবে এগোচ্ছিলেন, হয়তো পেয়ে যেতে পারতেন শতকের দেখাও। তবে ওশানে থমাসের বলে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে ১০৩ বলে ৭৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে।

স্মিথ ফিরলেও কোল্টার-নাইল তার আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। তারও সুযোগ ছিল ওয়ানডের প্রথম ফিফটিকে শতকে রূপান্তর করার। রান তোলায় মত্ত থাকা নাইল শেষ পর্যন্ত থেমেছেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৮ রান দূরে। বল খেলেছেন ৬০টি! ৮ চারের সঙ্গে বিশাল ছক্কার মার যাতে ৪টি। একসময়ে ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া শেষপর্যন্ত ৪৯ ওভার খেলে থামে ২৮৮ রানে।

ক্যারিবীয়দের হয়ে সেরা বোলার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। ৬৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন থমাস, কটরেল ও আন্দ্রে রাসেল।

BSH
Bellow Post-Green View