চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

২১ দিনের নিভৃতবাস: জেনেলিয়া বললেন ‘মনের জোরটাই আসল’

করোনা আক্রান্তকালীন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজা

টানা ২১ দিন ঘরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে করোনা মুক্ত হলেন ভারতীয় অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজা। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেই এ খবরটি জানিয়েছেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘গত ২১ দিন নিভৃতবাসে ছিলাম। শরীরের ছিল না করোনার কোনো উপসর্গ। তবে এখন করোনা মুক্ত আমি।’

যদিও জেনেলিয়ার করোনা পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি আগে গণমাধ্যমে আসেনি। তবে করোনা মুক্ত হওয়ার পর ইন্ডিয়ান টাইমসকে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে নিজের করোনা আক্রান্তকালীন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী:

বিজ্ঞাপন

কীভাবে করোনা পজিটিভ হলেন?
আমরা পুরো পরিবার কিছুদিন আগে লাতুর গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে যেখানে ছিলাম সেখানে একজন করোনা পজিটিভ ছিল। এরপর থেকে মনে এক ধরনের ভয় কাজ কাজ করছিল। ফলে আমরাও করোনা টেস্ট করাই। যদিও আমাদের কারোই করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না। কিন্তু তারপরেও দূভার্গ্যবশত আমার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে স্বস্তির খবর ছিল এটা যে, রীতেশ ও আমাদের সন্তানদের করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

বিজ্ঞাপন

এরপর?
এরপর লাতুর থেকে মুম্বাই ফিরে আমি বাসায় না গিয়ে সরাসরি লীলাবতি হাসপাতালে ভর্তি হতে যাই। কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা ভালো থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেন। তবে আমি নিজ বাসায় আর ফিরে যাইনি। কেননা এতে করে অন্যদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আমি আলাদা ফ্ল্যাটে থাকার সিদ্ধান্ত নেই। তবে আমার জ্বর, হাঁচি, কাশির কোন লক্ষণই ছিল না।

আলাদা ফ্ল্যাটে থাকার অনুভতিটা কেমন ছিল?
এটি ছিল আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা আমি একা থেকে অভ্যস্থ নই। অন্যদিকে করোনা থাকলেও আমার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো ছিল। তারপরেও বেশ ভয় পেয়েছিলাম। তবে আমার বন্ধু ও পরিবার আমাকে মানসিকভাবে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে এই কঠিন সময়টিতে।

তাহলে তিন সপ্তাহ পর আপনি করোনা নেগেটিভ হয়েছেন?
হ্যাঁ, আমার করোনা নেগেটিভ হতে তিন সপ্তাহ লেগেছিল। ১৪ দিন পর যখন টেস্ট করাই তখনো পজিটিভ ছিল, তবে ২১ দিন পর নেগেটিভ এসেছে।

স্বামী রীতেশ সহ পরিবারের সঙ্গে জেনেলিয়া

আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় কী করেছেন, কী খেয়েছেন?
আইসলেশনের পুরোটা সময়ই আমি ঘরেই ছিলাম। টিভি যে খুব একটা দেখতাম এমন না। নিজে সুস্থ থাকায় নিজেই রান্না করে খেতাম। বাহিরের কারো সাহায্য নেইনি।

করোনা মোকাবেলা নিয়ে আপনার নিজের কী অভিমত?
আমি মনে করি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মনের জোরটাই আসল। বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই অনেক ভ্রান্ত ধারণা থাকলেও বিষয়টিকে অনেক জটিল ভাবা হচ্ছে। যার ফলে আতঙ্কিত হয়েই অনেকেই শারীরিক নানান সমস্যায় ভুগছেন। তবে আমি সবাইকে বলতে চাই মনোবল শক্ত রেখে করোনা মোকাবেলা করুন এবং সচেতন হোন।