চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

২০ সেপ্টেম্বরকে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রচার করছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি

সারাবিশ্বে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। জাতিসংঘের ঘোষিত দিবস এটি। কিন্তু এই দিবসের পরিবর্তে ২০ সেপ্টেম্বরকে মাতৃভাষা দিবস পালন করতে প্রচারণা শুরু করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল বিজেপি।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ শেষ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করতে সোশ্যাল মিডিয়াতে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা।

বিজ্ঞাপন

তাদের দাবি, দু’বছর আগে এই দিনটিতেই উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে বিজেপির দু’জন কর্মী নিহত হন। তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্মরণযোগ্য।

বিজ্ঞাপন

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন। তার দাবি, এখন মাতৃভাষা দিবস পালন করা উচিত ২০শে সেপ্টেম্বর।

তার যুক্তি, রাজ্যে উর্দুর আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন দাড়িভিটের বিজেপি সমর্থক দুই যুবক, তাপস বর্মন ও রাজেশ সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা দিবস করেছে বামপন্থী ও কংগ্রেসিরা। ওটা বাংলাদেশের ঘটনা, তার সঙ্গে এ রাজ্যের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা যদিও ২১শে ফেব্রুয়ারিকে অস্বীকার করছি না। তবু সাম্প্রতিককালে রাজ্যে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে দাড়িভিটে রাজেশ-তাপসের বলিদানের ঘটনা আমাদের বেশি মনোযোগ দাবি করে।

বিজ্ঞাপন

বিজেপির এই খোঁড়া যুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের অনেক সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ একমত নন। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও এর বিরোধী।

বাংলা ভাষার সুপরিচিত লেখিকা জয়া মিত্র মনে করেন, অন্য কোনো ভাষাকে আক্রমণ করে কখনোই কোনো মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা যায় না। যদি এটার নাম মাতৃভাষা দিবস দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এ রাজ্যে যাদের মাতৃভাষা উর্দু, তাদের কী হবে? কিংবা যাদের মাতৃভাষা তামিল বা হিন্দি, তাদেরই বা কী হবে?

কংগ্রেস বলছে, ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের জায়গায় নতুন এই দিবসের আমদানি স্রেফ ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি ও মুখপাত্র কাকলি ঘোষদস্তিদার বলছেন, নতুন তারিখে মাতৃভাষা দিবস পালন আসলে বিজেপির একটা পুরনো কৌশলের অংশ।

তিনি বলছেন, বিজেপি যেভাবে ইতিহাস বদলে দেয়ার খেলায় নেমেছে, এটাও সেরকমই একটা চেষ্টা।

পূর্ব বাংলায় ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশ তথা সারাবিশ্বের সাথে পশ্চিমবঙ্গও মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এছাড়া ‘৬১তে বরাক উপত্যকার ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছরের ১৯শে মে তারিখটিতেও পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু অনুষ্ঠান হয়।।

কিন্তু ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসে সুস্পষ্ট আঘাত করার পরিকল্পনায় নেমেছে বলছেন অনেক পণ্ডিত।।