চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১ বছরে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ হাজার টাকা

কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বি। তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও কিছু পণ্যের দাম। সেই তালিকায় আছে এলাচ, ভোজ্য তেল, মসুর ডাল ও চিনি। গত ১ মাসের ব্যবধানে মসলা জাতীয় পণ্যটির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। আর এক বছরে তা বেড়েছে তিনগুণ।

রোববার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি এলাচ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। যা এক বছর আগেও বিক্রি হয় দেড় থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। এই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলাচ বিদেশি পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে। ফলে ধাপ ধাপে এর সরবরাহ কমছে। এ কারণে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। এবং দাম বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মন্তব্য তাদের।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও দেখা গেছে, এলাচের দামের এই উল্লম্ফন।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যমতে, এক বছর আগে এলাচের কেজি ছিল ১৫৫০-২০০০ টাকা। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে রোববার পণ্যটির কেজি বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬শ টাকা। আর এক মাস আগে ছিল ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু এলাচ নয়, দাম বেড়েছে ভোজ্য তেল, মসুর ডাল ও চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। গত এক মাসে সোয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা, ডালের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এছাড়া চিনির দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।

টিসিবির তথ্য বলছে, এক বছরে সোয়াবিন (লুজ) তেলের লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ১৩ টাকা আর পাম ওয়েলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এছাড়া মসুর ডালের দাম ৫ থেকে ২৫ টাকা, চিনির দাম ১০ থেকে ১৪ টাকা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তৌহিদুল আলম এলাচের দাম শুনে বললেন, পেঁয়াজের দুর্ভোগ এসে পড়ছে এলাচে। দোকানে ২০ টাকার এলাচ চেয়েছি। কমপক্ষে ৫০ টাকা নিতে হবে বলে জানান দোকানি। ৫০ টাকার এলাচ কিনে গুণে দেখলাম ৩০টি। সেই হিসেবে প্রতিটি এলাচের দাম পড়ছে প্রায় ২ টাকা।

তিনি বলেন, খুবই আশ্চর্যের বিষয়, ২/৩ মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে গেল দাম। তাহলে ঈদের আগে এর দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে? একের পর এক জিনিসের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ার ধারা ঠেকানোর কার্যকরী কোনো পদক্ষেপও নিতে দেখা যাচ্ছে না। এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে গরীব মানুষের বেঁচে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের মেসার্স উপহার স্টোরের পাইকারি বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, এলাচ আসে শধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা থেকে। সেখানে এবার উৎপান কম হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। ফলে আমদানি কমছে। আর এ কারণে বাংলাদেশে দাম বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই দাম ২শ/১শ টাকা করে বাড়ছে। এই দাম কমবে বলে মনে হয় না। বরং আরো বাড়বে।

দাম বাড়ার এই যুক্তিগুলো কতটা সঠিক এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী সরাসরি আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্য কিনেন এমন একজনের মোবাইল নং দিয়ে বলেন, এদের সাথে যোগাযোগ করলে এর সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। তবে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এই বাজারের বিউটি স্টোরের বিক্রেতা বলেন, উৎপান বা আমদানি কম হলে দাম বাড়বে। এটাই নিয়ম।

তিনি বলেন, আসলে দাম কমা বা বাড়ার বিসয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আমদানিকারকদের উপর। তারা দাম বাড়ালে পাইকারদেরও বাড়াতে হয়।

বিজ্ঞাপন