চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১৯৩ রান টপকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ সহজেই জেতা বাংলাদেশ অপেক্ষায় ছিল তৃতীয় ট্রফিটির জন্য। টি-টুয়েন্টি সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হলেও শেষ হাসি টাইগারদেরই। রোববার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে জেতার মধ্য দিয়ে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।

দুইশর কাছাকাছি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করে ৫ উইকেট হারিয়ে, ৪ বল হাতে রেখেই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কথায় আছে- শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের শেষটা হয়েছে মধুর। টি-টুয়েন্টি সিরিজ হারলে হয়ত টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দ কিছুটা হলেও হালকা হয়ে যেতো! সেটি হতে দেননি ব্যাটসম্যানরা। সম্মিলিত ব্যাটিং শৈলীতে বড় লক্ষ্য টপকায় টাইগাররা।

অসাধারণ জয়ে বড় অবদান সৌম্য সরকারের। বাঁহাতি ওপেনার ৪৯ বলে করেন ৬৮ রান। মারেন ৯টি চার ও একটি ছক্কা। তিন ম্যাচের সিরিজে এটি দ্বিতীয় ফিফটি সৌম্যর।

শুরুতে নাঈম শেখ (৩) ফিরে গেলেও রান তোলার গতি কমেনি বাংলাদেশের। ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা সৌম্যর সঙ্গে দারুণ ব্যাট চালান সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি ১৩ বলে ২৫ রান করে ফেরেন।

সৌম্য যখন আউট হন, তখন ১৩.৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ১৩৩। আফিফ হোসেন ধ্রুব নেমেই ঝড় তোলেন। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এ তরুণ। ৫ বলে দুটি ছয়ের সাহায্যে ১৪ রান করে বোল্ড হন এ বাঁহাতি।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আগলে রাখেন একপাশ। শামীম হোসেনকে নিয়ে গড়েন দারুণ এক জুটি। ২৮ বলে ৩৪ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফিরলেও শামীম খেলা শেষ করেই হারারের ২২ গজ ছাড়েন। তার ১৫ বলে ৬ চারে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি বাংলাদেশের জয়ে রেখেছে দারুণ অবদান।

বিজ্ঞাপন

অলিখিত ফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তোলে সিকান্দার রাজার দল। ওয়েসলি মাধেভেরে ও রেগিস চাকাভার ঝড়ো ব্যাটিং দুইশর কাছাকাছি সংগ্রহে নিয়ে যায় জিম্বাবুয়েকে।

তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানি ও মাধেভেরে। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হতে থাকা জুটিটি ভাঙেন সাইফউদ্দিন। এ পেসার বোল্ড করেন মারুমানিকে।

ওপেনিং জুটিতে আসে ৬৩ রান। পাওয়ার প্লে’র শেষ বলে উইকেট পান সাইফউদ্দিন। আউট হওয়ার আগে মারুমানি করে যান ২০ বলে ২৭ রান। মারুমানি ধীরগতিতে ব্যাট চালালেও মাধেভেরে শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। তাসকিন আহমেদের এক ওভারেই মারেন পাঁচটি চার।

সাইফউদ্দিন ব্রেক থ্রু এনে দিলেও লাভ হয়নি। তিনে নেমে চাকাভাও ঝড় তোলেন ব্যাট হাতে। দুই প্রান্ত থেকেই চার-ছক্কার উৎসব চলতে থাকে। ৯.৩ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলে জিম্বাবুয়ে।

পরে সৌম্য সরকারের জোড়া সাফল্যে রানের লাগাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ২২ বলে ৪৮ রান করা চাকাভাকে ইনিংসের দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলে ফেরান সৌম্য।

বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন শামীম। যদিও বেশি কৃতিত্ব নাঈম শেখের। অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে নিজে চলে যান মাঠের বাইরে, তার আগে বল ছুঁড়ে মারেন সতীর্থ ফিল্ডারের দিকে। আউট হওয়ার আগে এ ব্যাটসম্যান মারেন ছয়টি ছক্কা।

সৌম্য ওই ওভারের পঞ্চম বলে শূন্য রানে বোল্ড করে ফেরান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রাজাকে। পরে সাকিব আল হাসান সাজঘরে পাঠান মাধেভেরেকে। ৩৬ বলে ৫৪ রান করেন আগের ম্যাচের সেরা। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার।

শেষে আবার রান বাড়িয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। রায়ান বার্লের ১৫ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ক্যামিও ইনিংসে দুইশর খুব কাছে গিয়ে থামে স্বাগতিকরা।