চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Nagod

হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা এখনও ঝুলে থাকে কী করে?

Fresh Add Mobile
বিজ্ঞাপন

বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকলেও গত বছর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন এ মামলা বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি বিপুল দেবনাথ তখন বলেছিলেন: ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ মামলার বিচার অবশেষে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঠিক করে দেবে। আশা করছি, শিগগিরই এ মামলার রায় হবে।’ কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই ‘শেষ পর্যন্ত’ আজও শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

২০০৪ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে লেখক ড. হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে দেশে ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেন তিনি। ওই বছরের ৮ আগস্ট যান জার্মানির মিউনিখে। সেখানে ১১ আগস্ট মারা যান এই ভাষাবিজ্ঞানী।

ওই ঘটনার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় ড. হুমায়ুন আজাদের ছোটভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জেএমবির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেন তৎকালীন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. হাবিবুর রহমান।

আসামি মিজানুর রহমান ও আনোয়ারুল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা বলেন, ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বইটি লেখার কারণে ড. হুমায়ুন আজাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। যার পরিকল্পনা করেন সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেই বিচারকার্য এখন থমকে আছে। রাষ্ট্রপক্ষের কোনো টু শব্দটি নেই এই মামলার বিচার কার্য নিয়ে।

বিজ্ঞাপন
Reneta April 2023

বাংলাদেশের গৌরবজনক অধ্যায়ের অন্ধকারতম দিন ছিল ২০০৪ সালের ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি। একজন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী লেখককে প্রকাশ্যে দিবালোেকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হুমায়ুন আজাদের মত প্রথিতযশা লেখক বুদ্ধিজীবী লেখককে হত্যা প্রচেষ্টার দীর্ঘ ১৬ বছরও কোনো বিচার না হওয়া দুঃখজনক। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় বইমেলায় লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা এবং ব্লগার হত্যার ধারাবাহিক ঘটনাও ঘটেছে।

আমরা চাই, এ হত্যা মামলার বিচার যেন দ্রুত হয়। তাতে দেশে এই ধরণের মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এইসব প্রতিক্রিয়াশীল গুপ্ত ঘাতকের বেড়ে ওঠা বন্ধ হবে অচিরেই।

বিজ্ঞাপন
Bellow Post-Green View