চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১৪ বছরেও হল পায়নি জবি শিক্ষার্থীরা

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ১৪ বছর পার হলেও এখন পর্যন্তও কোনো আবাসিক হল পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে নানা ভোগান্তির মধ্যেই শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাদের।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে থেকে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জবির ৯টি হলও এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়া উদ্ধার হওয়া দুটি হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসিকের কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একমাত্র ছাত্রী হলের কাজ শুরু হলেও, ৬ বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট জটিলতার কারণে কাজের গতি ধীর হচ্ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, হল নির্মাণের সাথে তারা সংশ্লিষ্ট নন, তারাও দ্রুত হলের কাজের শেষ চান।

সরেজমিনে হলটিতে গিয়ে দেখা যায় ১৬ তলা বিশিষ্ট হলটির ১৫৬ টি রুমে ৪ জন করে মোট ৬২৪ জন ছাত্রী থাকতে পারবেন। তবে এখনো রং, টাইলস, লিফট, থাই গ্লাস, দরজা, ওয়াশরুম, প্লাস্টার, পানির লাইন, টেবিল-চেয়ার, ছাত্রীদের থাকার জন্য বেডসহ বাকি রয়েছে অনেক ইলেক্ট্রনিক কাজও।

২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জবি ছাত্রলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে ৩/১ লিয়াকত এভিনিউয়ের ২৩ কাঠা পরিত্যক্ত জায়গাটি দখল করা হয়। পরে সেখানে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের ব্যানার টানান শিক্ষার্থীরা।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে জায়গাটিতে এক হাজার ছাত্রীর জন্য ২০তলা বিশিষ্ট দুটি টাওয়ার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের ২২ অক্টোবর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এরইমধ্যে ২০১৪ সালে হলের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে শিক্ষার্থীরা। ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীনে ওই বছরের ২০ অক্টোবর ছাত্রী হলের কাজের উদ্বোধন করা হয়।

এদিকে কাজের ধীরগতির কারণে ছাত্রী হল নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়াতে হয়েছে। ২০১০ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনটি ৭ তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও ২০ তলাবিশিষ্ট একটি হল নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩ বছর পর কাজ শুরু হওয়ায় পরে পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ঐ সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের তৃতীয় দফা মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।

গত জানুয়ারিতে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রী হলটির প্রজেক্ট ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, চলতি বছরের মার্চের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হলটি হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু মার্চের শেষদিকেও আগের চেয়ে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই হলের নির্মাণকাজে।

কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, হলের শতকরা ৮৫-৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে হলটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।

বিজ্ঞাপন

হলের কাজে ধীরগতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিয়া আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ভাড়া থাকার সাধ্য না থাকলেও কষ্ট করে বাসা ভাড়া নিতে হয়। মেসে ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। খাওয়ার কষ্ট তো আছেই, মেসে খেতে খেতে আমরা নানা রোগে ভুগছি। আমরা চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সংকট কেটে উঠুক।

আরেক শিক্ষার্থী আতাউর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, পুরান ঢাকা বসবাসের অযোগ্য, তাই দূরে থাকতে হয়। বাসের এক ট্রিপ থাকায় সকালে ক্লাস না থাকলেও ভোরে রওনা হতে হয়। পথেই সব সময় চলে যায়। হল থাকলে অসুবিধাগুলা হতো না, গ্রুপ স্টাডিও করতে পারতাম। আর ছাত্রী হলের কাজই যেভাবে ঝুলছে, ছাত্রদের হল দেখে যেতে পারবো মনে হয় না।

তবে চলতি বছরই ছাত্রীদের হলে ওঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, হল নির্মাণের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক নেই। ইইডি (এডুকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) হল নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করবে। এদের যে সমস্যাই থাকুক আমরা চাচ্ছি আমাদের মেয়েদের এ বছরের মধ্যেই হলে উঠাতে।

মীজানুর রহমান আরও বলেন, তাদের (ইইডি) কি জটিলতা আছে তা আমাদের জানার দরকার নাই, আমরা চাচ্ছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের জটিলতা দূর করে আমাদের কাজটা দ্রুত সম্পূর্ণ করুক।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা উপস্থাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা
এদিকে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কেরানীগঞ্জের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের নকশার ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আরো জানান, পাশাপাশি জলাধার, খেলার মাঠ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাসহ সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নকশা উপস্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক  প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

উল্লেথ্য, ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৮৭২ সালে নাম বদলে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজের রূপ পায়।

Bellow Post-Green View