চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১১ মাস কি অর্থমন্ত্রী ঘুমিয়েছিলেন, প্রশ্ন এফবিসিসিআই সভাপতির

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংক ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনার ঘোষণার পরও গত ১১ মাসে তা কার্যকর না হওয়ার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, ১১ মাস পর তিনি (অর্থমন্ত্রী) বললেন, বেশি সুদ হার নিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করা কঠিন। তাহলে এত দিন কি তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন?

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ঋণের সুদ হারের বিষয়ে শেক ফজলে ফাহিম বলেন, ঋণের সুদ হার এক অংকে আসার কথা। অর্থমন্ত্রী জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার ১১ মাস পর নভেম্বরে তিনি বলেছেন, সুদের হার এত বেশি যে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করা খুব কঠিন। তাহলে এই ১১ মাস তিনি কী করলেন? তিনি কি শীতনিদ্রায় ছিলেন?

“আমাদের প্রশ্ন, এই ১১ মাস তিনি ব্যাংকিং কাঠামোতে কী করলেন? ব্যাংকিংখাত নিয়ে যখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এ বিষয়গুলো ভালোভাবে উঠে আসছে তখন তিনি হয়তে আবারো হাইবারনেশনে (শীতনিদ্রা) যাবেন। এগুলো দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে খুব আশ্চর্য লাগে যে, বাংলাদেশের সিরামিক খাতে গত ১০ বছরে ৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০০ শতাংশ। আমরা মনে করি বাংলাদেশে যতগুলো খাত আছে তারমধ্যে সিরামিক খাত একটি ডায়মন্ড খাত। তৈরি পোশাক খাতে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এরপর সব খাতেই প্রণোদনা দেয়া উচিত। কিন্তু দেখা গেছে, সেখানে অনেক ঘাটতি আছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি আসেননি। অথচ এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধি ও প্রদর্শকরা এসেছেন। অবশ্য তিনি অনুপস্থিত থাকার কারণ হয়তো আছে।

“গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ১৮৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় ৩২০ ডলার থেকে হাজার ১৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এনবিআর অসহযোগিতা থাকবে এবং পেশাগত অযোগ্যতা এটা খুবই বিষন্ন।”

সিরামিক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাঁচামালে সম্পূরকশুল্ক দিতে হয়। কিন্তু সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় কোথায়; স্থানীয় শিল্পকে প্রতিরোধ করার জন্য। অথচ বাংলাদেশের শিল্পকে বাড়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে এই সম্পূরক শুল্ক। হয়তো এজন্যই এনবিআর চেয়ারম্যান এখানে আসেননি।

বিজ্ঞাপন

“প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অসম্ভব সম্মান দেন। প্রধানমন্ত্রীর টিমে সদস্য যারা আছেন, তাদের অনেকেই না চাইলেও প্রসধামন্ত্রীর কারণে সম্মান দিতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন বিভাগ যেভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, এটা দুঃখজনক। এটা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগোনোর পথে বাধা। এটা আমরা মনে করি।”

সিরামিক খাতের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের যেসব সমস্যা আছে সেগুলো শক্তভাবে উপস্থাপন করেন। এফবিসিসিআই শতভাগ আপনাদের পাশে থাকবে।

রপ্তানিতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে যেখানে সিরামিক পণ্যে বৈচিত্র্য আসছে সেখানে অর্থমন্ত্রণালয় এবং এনবিআর এমন এমন অবাস্তব বাধা সৃষ্টি করছে যে, এ খাত যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও ঋণের সুদ হার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৮/৯ মাস আগে সংসদে বলেছিলাম, ১২-১৪ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা সম্ভব না। আপনারা কর্মসংস্থান চান, বাণিজ্যের প্রসার চান। এত সুদ দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী সফল হতে পারবে না। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে, ঋণখেলাপি বাড়বে। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ব্যাংকারদের অনেক ধরনের সুবিধা দিলাম। সুবিধাটা কিন্তু ব্যাংক মালিকরা নিল, সুদহার কিন্তু সিঙ্গেল ডিজিটে আনা হলো না।

টিপু মুনশি বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেকবার বললেও কোনো বেসরকারি ব্যাংক সুদহার এক অংকে আনেনি। বাংলাদেশই পৃথিবীর মধ্যে ব্যতিক্রম যেখানে আমানত ও ঋণের মধ্যে স্প্রেড (ব্যবধান) সর্বোচ্চ; পৃথিবীর কোথাও দুই-আড়াই-তিন শতাংশের বেশি নেই। বাংলাদেশে স্প্রেড ৫/৬ শতাংশ। এটা ঠিক না, হওয়া উচিত না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে বলেছিলাম, এটা রীতিমতো ডাকাতি। পরেরদিন পত্রিকায় আসলো আমি নাকি ব্যাংকারদের ডাকাত বলেছি। আমি যা বললাম তার উল্টোটা আসলো। সেদিন পেঁয়াজের ব্যাপারে বললাম, আমি পদত্যাগ করলে পেঁয়াজের দাম কমলে পদত্যাগ এক মিনিটের ব্যাপার। পরেরদিন পেপারে আসলো আমি বলেছি, আমি পদত্যাগ করবো।

মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকারদের ক্ষেত্রেও একই কথা, তারা সবধরনের সুবিধা নিল, প্রধানমন্ত্রী বারবার বললেন, কাজের কাজ কিছুই হলো না। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীরা যাবে কোথায়। আমার এই কথাগুলো আপনাদের কাছে মনে হবে, মন্ত্রী বলছে নাকি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিজনেসম্যান বলছে। আমি ৪৫ বছর ধরে ব্যবসা করি। রাজনীতি করি তারচেয়ে বেশি সময় আগে থেকে। কথাবার্তা আমার ব্যবসায়ীর মতো মনে হয়। মন্ত্রীর মতো ভয়েস, মন্ত্রীর মতো ভাবটাব আমার হয়নি। এখনো ব্যবসায়ীর মতো কথা বলি।

শেয়ার করুন: