চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১০ চিকিৎসক ও এসপি-ওসিসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

ধর্ষণ বিষয়ে ভিকটিম শিশুর ডাক্তারি প্রতিবেদনে ভিন্ন-ভিন্ন রিপোর্ট দেয়া ও পুলিশের তদন্তে গাফিলতি প্রশ্নে ব্যাখ্যা দিতে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনসহ ১০ চিকিৎসক এবং এসপি-ওসিসহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এদের সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হয়ে তাদের এবিষয়ে ব্যখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশের আইজিকে পৃথকভবে ৩ সদস্যের কমিটি করে এঘটনা তদন্ত এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে ধর্ষণ মামলাটি ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং এই মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন শুনাতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহ পরান চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়: ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১১ বছরের (ডাক্টারিসনদ অনুযায়ী) আরেক শিশুর বিরুদ্ধে গত ১১ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা করে ভিকটিমের বাবা। তবে মামলায় আসামির বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫ বছর। একপর্যায়ে মামলার আসামি আগাম জামিন আবেদন করেন হাইকোর্টে। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৩ নভেম্বর আসামিকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে একমাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার সিডি ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরইমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দোষীপত্র দেয়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেন।

ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ধর্ষণের ঘটনার পরদিন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভিকটিম শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার পত্রে লেখা হয়, Sexual Assault 3 Dayes Bak’। আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেয়া রিপোর্টে বলা হয়, ‘NO EXTARNAL FINDING’। আবার জেলা সদর হাসপাতালের দেয়া রিপোর্টের মতামতে বলা হয়, ‘ON PHYSICAL & PATHOLOGICAL, RADIOLOGYCAL EXAMINATION WE FIND SIGN OF SEXUAL ASSELT WITHIN 72 HOURES.’ তবে এরপর আবার হাইকোর্টে দেয়া প্রতিবেদনে ক্ষমা চেয়ে বলা হয় মতামতের জায়গায় ভুলবশত ‘SEXUAL ASSULT WITHIN SPECIFIED TIME, এর স্থলে ‘SEXUAL ASSELT WITHIN 72 HOURES’ লিখা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধর্ষণ সংক্রান্ত সংশোধিত একটি রিপোর্ট দেয়, যা মামলার ডকেটে সংযুক্ত করা হয়।’

হাইকোর্টের প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব বিষয় পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালত আজ স্বপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন।