চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হ্যাটট্রিকের রাতে রোনালদোর ইতিহাস

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফুরিয়ে যাচ্ছেন— শেষ কয়েক ম্যাচে বিবর্ণ পর্তুগিজ সুপারস্টারকে নিয়ে চলছিল এমন আলোচনা। বিতর্ক, সমালোচনা এবং চোট ছাপিয়ে চিরচেনা রূপে ফিরলেন সিআরসেভেন। টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে করলেন ম্যাচজয়ী হ্যাটট্রিক, গড়লেন ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড।

শনিবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে টটেনহ্যামকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রাল্ফ র‌্যাঙ্গনিকের দল। দারুণ জয়ে আর্সেনালকে (৫৮) হটিয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রেড ডেভিলরা উঠেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে।

Reneta June

পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবন থেকে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে ম্যানইউতে এখন পর্যন্ত ৮০৬বার জালের দেখা পেয়েছেন রোনালদো। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে মোট গোলের হিসেব রাখে না ফিফা। আনঅফিসিয়াল ভাবে কাজটি করে থাকে আরএসএসএসএফ নামের একটি সংস্থা।

বিজ্ঞাপন

আরএসএসএসএফের পরিসংখ্যানে, রোনালদোর আগে সর্বোচ্চ গোলের মালিক ছিলেন তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার স্ট্রাইকার জোসেফ বিকান (৮০৫ গোল)। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে সম্প্রতি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড দখলে নেয়া সিআরসেভেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে ছাড়িয়ে গেলেন তাকে।

হ্যাটট্রিক গড়ার রাতে রোনালদো শুধু বিকানকে ছাপিয়ে গেলেন না টটেনহ্যামের বিপক্ষেও গড়লেন ইতিহাস। ম্যানইউ স্ট্রাইকারের লন্ডনের ক্লাবটির বিপক্ষে ক্যারিয়ারে দশটি গোল পেয়েছেন।

এককভাবে রেকর্ড দখল নেয়ার রাতে আরেকটি আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন রোনালদো। প্রায় এক যুগ পর পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ। ক্যারিয়ারে সবশেষ ৫৮তম হ্যাটট্রিক করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে, ২০০৮ সালে। ঘরের মাঠে রেড ডেভিলদের ৪০০তম জয়ে নিজের নৈপূণ্য দেখালেন ৩৭বর্ষী সুপারস্টার।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে নামার আগে ম্যানইউ ছিল সেরা পাঁচে। ওয়াটফোর্ডের সাথে ড্রয়ের পর ম্যানসিটির বিপক্ষে বড় হার চোখ রাঙাচ্ছিল পয়েন্ট টেবিলে অবনতির দিকে। সেখানে ত্রাতা হলেন রোনালদো, জেতালেন, বাঁচিয়ে রাখলেন শেষ চারের আশা।

নিতম্বের চোট থেকে ফেরা রোনালদো এদিন রেড ডেলিভদের ১২তম মিনিটেই এগিয়ে দেন। ফ্রেদের বাড়ানো বলে জায়গা করে নিয়ে ২৫ গজ দূর থেকে নেয় গোলে শট। দুর্দান্ত গতির শটটি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে জালের কোণায় আছড়ে পরে।

রোনালদোর চোখ ধাঁধানো গোলের পর ৩৫ মিনিটে সমতায় ফেরে সফরকারী দল। হ্যান্ডবলের জন্য টটেনহ্যামের পক্ষে পেনাল্টি বাঁশি বাজালে সফল স্পট কিক নেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন।

তিন মিনিট পর গোল ব্যবধান ২-১ করেন রোনালদো। জর্ডান স্যাঞ্চোর পাস ধরে দারুণ এক শটে জাল খুঁজে পান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ৭২ মিনিটে ম্যানইউ অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুইয়ারের আত্মঘাতী ভুলে আবারও সমতায় ফেরে টটেনহ্যাম, জমিয়ে তোলে লড়াই। শেষ দিকে রোনালদোই গড়ে দেন পার্থক্য। দারুণ এক হেডে দলকে জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি করেন ইতিহাস গড়া রেকর্ডও।