চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হেফাজতের হরতালে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: আইজিপি

হেফাজত ইসলামের ডাকা হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সার্কিট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ স্টিল ছবি ও ফুটেজ দেখা হচ্ছে। রুল অব ‘ল’ এবং গুড গভর্নেন্সের জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে।

আইজিপি বলেন, যেসব জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে সবগুলোই রাষ্ট্রীয় সম্পদ তথা জনগণের সম্পদ। জনগণের সম্পদে কেউ কেনো এভাবে নষ্ট করবে তা আমার বোধগম্য নয়। সার্কিট হাউজে হামলা হয়েছে, ভূমি অফিসে হামলা হয়েছে। ভূমি অফিসের ১৫০-২০০ বছরের নথি নাশকতাকারীরা পুড়িয়েছে যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকজনকে আরও ৫০ বছর ভোগাবে।

পুলিশের প্রধান বলেন, এ জেলায় ৩২ লাখ বাস করে, ৫৭৪টি মাদরাসা রয়েছে। সবাই পরকালের জন্য এসব মাদরাসায় দান-সদকা করে এগুলোকে পরিচালনা করেন। অথচ এসব মাদরাসার কোমলতি ছাত্রদের নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধরন দেখে এটা স্পষ্ট যে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য এই হামলা।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে নাশকতার সময় ‘শিশু বক্তা’ রফিকুলকে ধরে পরবর্তীতে আবার ছেড়ে দেওয়া হলো, হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো না। গ্রেপ্তার করা হলো না। অথচ কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ঢাকায় অবস্থান করা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হুকুমের আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছিল। কেন হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা গ্রেপ্তার হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, তদন্ত করে যার নাম আসবে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি থানায় যখন হেফাজতের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিল, তখন পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে থানার ভেতর থেকে মাইকিং করে বলে থানার ভবন ছেড়ে অন্য যে কোনো জায়গায় হামলা করুন। পুলিশের এমন দায়িত্বহীন আচরণের বিষয়ে আইজিপির কাছে ব্যাখ্যা চান স্থানীয় এক সাংবাদিক।

উত্তরে আইজিপি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় পুলিশের পৃথক কমিটি হয়েছে। কেউ যদি মাইকিং করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা অপেশাদার আচরণ। এ ধরনের কাজ করে কেউ পুলিশে থাকতে পারবে না।

এর আগে আইজিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, সার্কিট হাউজসহ নাশকতা চালানোর স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে ও চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে আরও একজন নিহত হন।

বিজ্ঞাপন