চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হিরো আলমকে নিয়ে কেন ঠাট্টা-মশকরা!

ফেসবুকের ওয়াল জুড়ে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিরো আলম। নিজের দুইটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঠাট্টা-মশকরাও কম হচ্ছে না।

এবার সেসব নিয়েই পোষ্ট দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক সাগর লোহানী। নিজের ফেসবুকে তিনি এই সংক্রান্ত একটি পোষ্টে হিরো আলম ও তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরার বিষয় নিয়ে লিখেছেন।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক পোস্টে সাগর লোহানী লিখেছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে ফেসবুকে সকলের কাছে পরিচিত হয়েছেন হিরো আলম নামে। এক সময় সিডি বিক্রি করতেন এই হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলম। তারপর শুরু করেন ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসা নিজ গ্রাম বগুড়ার এরুলিয়া ইউনিয়নের এরুলিয়ায়।

বিজ্ঞাপন

অভাবের তাড়নায় ছোটবেলায় আলম আপন পরিবারের স্নেহ হারিয়ে আশ্রয় পান একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাসায়। আব্দুর রাজ্জাক তাকে ছেলের মতো করেই বড় করে তোলেন। স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে আলমকে নেমে পড়তে হয় জীবিকার তাগিদে। শেষ পর্যন্ত ডিশ ব্যবসায় হাত দিয়ে সফলতা অর্জন করেন এবং তার মাসে আয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখেই আছেন আলম।

আলমের সফলতার কথা টেনে তিনি তার পোষ্টে লিখেছেন, ক্যাসেটে দেখতেন মডেলদের ছবি। সেই থেকে স্বপ্ন মডেল হওয়ার। ২০০৮ সালেই করে ফেলেন একটা গানের সাথে মডেলিং। আলম দুইবার নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছিলেন। হেরে গেছেন। তবে এলাকার মানুষজন তাকে পছন্দ করে। তাই নির্বাচনে এবার তিনি মাত্র ৭০ ভোটে হেরে দ্বিতীয় হয়েছেন।

একজন মানুষ জন্মে হারিয়েছেন পিতৃমাতৃ স্নেহ, অন্যের আশ্রয়ে বড় হয়েছেন, পেয়েছেন সামান্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে শুরু করে আজ তিনি স্ত্রীসন্তান নিয়ে স্বচ্ছল শান্তির জীবন যাপন করছেন। স্বপ্ন দেখেছেন মডেল হবার, স্বপ্ন দেখেছেন নির্বাচিত প্রতিনিধি হবার। স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন।

একটি ক্ষুদ্র মানব জীবনে আর কি চাই? 

হিরো আলম তো কারো ক্ষতি করেনি তাহলে তাকে নিয়ে এই ঠাট্টা মশকরা কেন এই প্রশ্ন তুলে সাগর লোহানী লিখেছেন, আলম নিজের স্বচ্ছন্দ জীবনের জন্যে, জীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্যে কারো ক্ষতি কিন্তু করেননি, কারো সম্পত্তি দখল করেননি, চুরি করেননি, ছিনতাই বা চাঁদাবাজী করেননি, কারো সাথে প্রতারণাও করেননি। কেবলমাত্র আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে জীবনের চাওয়াকে পাওয়ার সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন।

যারা আলমকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করছেন তাদের প্রতি একটা ছোট্ট অনুরোধ, একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখবেন আপনি জীবনে কতটা সফল???