চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হায় ‘করোনাকাল’!

মানুষ কতটা অসহায়, হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে এই ‘করোনাকাল’-এ। মানুষের বাহাদুরি, জারিজুরি, দম্ভ, অহঙ্কার যা-ই বলি না কেন সব মিথ্যা। টাকা পয়সা ধন দৌলত সব তুচ্ছ।জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র যা-ই থাকুক না ছাপার অক্ষরে মোটা মোটা পুস্তকে, সব তুচ্ছ।

তা হলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে-সত্যিটা কি?

বিজ্ঞাপন

সত্যিটা হচ্ছে, মানুষ বড় অসহায়। দিনশেষে মানুষ অন্য আট-দশটা প্রাণির মত প্রকৃতির খেলার বস্তু। প্রকৃতি মানুষের অসহায়ত্ব দেখে দূর থেকে হাসছে। আর ফ্ল্যাশব্যাকে যা মনে করার চেষ্টা করছে, তা হলো-গাছপালা কেটে বন উজার করা হচ্ছে। মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে খাল-বিল-নদী। উঠছে দালানবাড়ি। নগরায়ন ঘটছে সবুজ প্রকৃতিকে ধ্বংস করে। দূরের ইটখোলায় গাছ পোড়ানোর ধুম পড়েছে। কালো ধোয়ায় ছেয়ে গেছে নীলাকাশ।

অসহায়ত্ব থেকে জন্ম নিচ্ছে একাকিত্ব। নিজেকে একা ভাবা ছাড়া আর কিছুই যেন মাথা থেকে নামছে না।

কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়েই যায় তা হলে তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। যাতে তার সংস্পর্শে এসে পরিবারের কেউ আক্রান্ত না হয়। তার মানে দাঁড়ালো এই যে, মায়ার সংসার সব কিছু তুচ্ছ।

পত্রিকা মারফত জানা গেছে, করোনাক্রান্ত হয়ে একজন মারা যাওয়ার পর তার কবরের পাশে প্রিয়জনেরা যেতে পারেনি। এর চেয়ে সত্য কথা আর কি হতে পারে? মায়া মমতা ভালোবাসা সব জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু শোক বয়ে বেড়ানো ছাড়া কিছু করার নেই মানুষের।

করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার আপাতত কোনো ওষুধ নেই। করোনা থেকে দূরে থাকতে শুধু প্রয়োজন সচেতনতা, সচেতনতা আর সচেতনতা।

বিজ্ঞাপন

মানুষ অসহায়, একা-এসব দার্শনিক ভাবনাগুলো প্রতিটি সচেতন মানুষের ভেতরেই কমবেশি কাজ করছে। কোটি কোটি টাকা আছে ব্যবসা-বাণিজ্য করে কামাই করা। কারো বা অসৎ পথে কামাই করা। কিন্তু করোনা হয়েছে তো সহজে রেহাই মিলবে না। নিজে তো মরছেই, আশপাশের মানুষকে নিয়েও মরছে।

প্রকৃতি বিরূপ, প্রকৃতি নিষ্ঠুর-আরো কত কথা প্রসঙ্গক্রমে এসে যায়। তবে এর মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, কক্সবাজারে পর্যটকশূন্য হয়ে যাওয়ায় ডলফিন সমুদ্রপাড়ে এসে খেলা করছে। পৃথিবীর আরো অনেক দেশেরই সমুদ্রপাড়ে এরকম ডলফিন পাড়ে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রকৃতির এই যে সৌন্দর্যবর্ধণকারী প্রাণী তারাও এতদিন মানুষের অত্যাচারে পাড়ে আসতে পারেনি। মানুষ এখন ঘরবন্দি জীবনযাপন করায় নীল জলরাশির ভেতর থেকে ভাসতে ভাসতে পাড়ে আসার সুযোগ পেয়েছে।

প্রকৃতির ওপর মানুষের অত্যাচার তো কম হয়নি। আমাজনের বর্ষাঅরণ্য, যাকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়, তাতেও আগুন লাগানো হয়েছে। নদীনালা দখল করে ভরাট করা হয়েছে। গাছপালা উজার হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলে নদীকে মেরে ফেলা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যেগুলো ধ্বংস না করে ফেলা হয়েছে যেখানে সেখানে। সেগুলোর ভেতরে থাকা নানা রাসায়নিক পদার্থ প্রকৃতির নির্মল বাতাসকে করেছে বিষাক্ত।

মানুষকে এখন তার কৃতকর্মের ফল- অভিশাপ ভোগ করতে হচ্ছে বললে কি খুব বেশি বলা হবে? দিনশেষে মানুষ অসহায়, একা-এইসব চিন্তা থেকে নানা রকমের অপরাধবোধ জমা হচ্ছে করোটিতে।

রেললাইনের ধারে উদোম গায়ের শিশু যেমন অনিরাপদ, তেমনি ডোনাল্ড ট্রাম্প এই করোনা ভাইরাসের কাছে অনিরাপদ আজ। পার্থক্য হচ্ছে ওই উদোম গায়ের শিশুর কোনো টেনশন নেই। ট্রাম্পের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

টাকা-কড়ি সবকিছু তুচ্ছ হয়ে গেছে করোনার কাছে। সচেতন থেকে শুধু ‘করোনাকাল’কে অসহায়ভাবে পার করা ছাড়া কিইবা করার আছে মানুষের?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)