চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাসিনা-মোদি শাসনামলেই কি হবে পানিবণ্টন চুক্তি?

সমগ্র বিশ্বে পানির জন্য হাহাকার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিশুদ্ধ পানির সংকট বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নদ-নদী থেকে শুরু করে সকল প্রকার জলাশয় নষ্ট করার যেন একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলছে। বিষাক্ত শিল্পবর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা ফেলে রাজধানীসহ সারাদেশের নদ-নদীগুলো বিষাক্ত করে তোলা হচ্ছে। এর উপরে দখলদারির বিষফোঁড়া রয়েছে। নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা অপ্রতুল। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ২২ মার্চ পালিত হবে বিশ্ব পানি দিবস। নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা করার কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না হলেও তাদের জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত। এজন্য সবাইকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বন্টনসহ অন্যান্য নদীগুলোর বিষয়ে অসম্পন্ন চুক্তিগুলো অনেকবছর হলো ঝুলে আছে। ২০০৯ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সাক্ষরের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। কিন্তু নানা বাস্তবতায় ওই চুক্তি হচ্ছে হবে করেও হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে প্রকাশিত ইশতেহারে শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার কারণে দুই দেশের জনদুর্ভোগের কথা অনুধাবন করে জরুরি ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের দিক-নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানি বন্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রায় চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে আছে। এছাড়া মনু, মুহুরী খোয়াই গোমতী ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টন বিষয়েও আলোচনা ঝুলে আছে। জনসংখ্যার তুলনামূলক বিচারে তিস্তার মোট সুবিধাপ্রত্যাশী জনগণের ৩০ ভাগ ভারতে আর ৭০ ভাগ বাংলাদেশে। তাই এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানে না আসলে দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হবে, যা কখনোই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, যেহেতু ভারতের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তি করতে অঙ্গীকার করেছেন, তাই উদ্যোগটি ভারত সরকারকেই নিতে হবে। এরপরও বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির শাসনামলেই বাংলাদেশ-ভারতের পানি বণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে, বিশ্ব পানি দিবসে এটাই আমাদের আশাবাদ।