চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাত বদলেই দ্বিগুণ হচ্ছে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজের দাম

হাত বদলেই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় বাজারে আসা পাতাসহ নতুন পেঁয়াজের দাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় সেই একই পেঁয়াজ পাড়া-মহল্লার বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজার এবং কাঁঠাল বাগান-তেজকুনী পাড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে পেঁয়াজের দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কারওয়ান বাজারের পাইকারি দামের সাথে খুচরা পর্যায়ে মহল্লার বাজারভেদে দামের পার্থক্য দ্বিগুণেরও বেশি। ব্যবসায়ীরা রীতিমতো ভোক্তাদের পকেট কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

তাদের দাবি, বড় বাজারগুলোর সাথে মহল্লার বাজারেও সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় রাখতে ও কারসাজি ঠেকাতে সরকার মনিটরিং জোরদার করলেও কোনো কাজে আসছে না তা। এখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণ আসেনি পেঁয়াজের বাজার।

কারওয়ান বাজারে পাতাসহ পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। এই পেঁয়াজের সরবরাহ ও দেখা গেছে প্রচুর পরিমাণে। তবে এই পেঁয়াজগুলো অপরিপক্ব।বেশি লাভের আশায় পেঁয়াজ পরিপক্ব হওয়ার আগেই জমি থেকে তুলে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

তবে দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিশর, চায়না, মিয়ানমার, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। তবে একই বাজারে বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন দাম নিতে দেখা গেছে।

কিন্তু কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দামে পেঁয়াজ কিনে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নিয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তেজকুনি পাড়ায় মহল্লার এক দোকান থেকে পাতাসহ ১১৫ টাকায় ১ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সোহাগ হোসেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০/৭০ টাকায়। অথচ সেই পেঁয়াজ এখানে বিক্রি হচ্ছে ১১৫/১২০ টাকায়।

তিনি বলেন, সরকারের তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মত দাম নিচ্ছে। পাড়া-মহল্লার বাজারে ভোক্তার পকেট কাটছে তারা। শুধু কাঁঠালবাগানই নয়, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভ্যানগাড়ি ও দোকানেও পেঁয়াজের দামের এই পার্থক্য দেখা গেছে।

এছাড়া কাঁঠালবাগান ও নাখালপাড়ায় ভ্যান গাড়িতে পাতাসহ পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যান্য পেঁয়াজের দামেও ব্যবধান দেখা গেছে।

তবে বরাবরের মত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। এছাড়া পরিবহন ব্যয় ও কারওয়ান বাজার থেকে পণ্যের গাড়ি বের করে আনতে ট্রাফিক পুলিশের পেছনেও খরচ হয়। সব খরচ পুশিয়ে নিতেই দাম বেশি নিতে হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ আগের তুলনায় পেঁয়াজ কম কিনছেন। যার প্রয়োজন ২ কেজি তিনি কিনছেন ১ কেজি। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা টিসিবির পেঁয়াজ কিনছেন। সেখানে ৫০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। ৩০ টাকার পেঁয়াজ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ২৫০ টাকার ওপরে গিয়ে ঠেকে। সেই দাম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন: