চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাতি হত্যা ভারতীয় সংস্কৃতি নয়: জাভড়েকর

ঘটনা তদন্তের আশ্বাস

ভারতের কেরালার মালাপ্পুরম জেলায় অন্তঃসত্ত্বা হাতিকে বিস্ফোরক ভরা আনারস খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।

কে বা কারা ওই আনারসের মধ্যে বিস্ফোরক ভরে রেখেছিল এবং তাদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেছেন, হাতি-মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তদন্ত করবে।

বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানান, সরকার হাতির হত্যার ওই ঘটনাটিকে “গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে”।

‘‘আমরা ঘটনার যথাযথ তদন্ত করতে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে কোনও প্রচেষ্টাই বাকি রাখবো না।’’

নিজের টুইটে জাভড়েকর জানান যে, বিস্ফোরক ভর্তি আনারস খাওয়ার ঘটনাটি মল্লাপুরমে ঘটেছিল, কিন্তু কেরলের পালক্কড় জেলায় গিয়ে শেষপর্যন্ত হাতিটি মারা যায়। ঘটনাটি ঘটে ২৭ মে, তবে সম্প্রতি সেটি প্রকাশ্যে আসে।

সরকার হাতি হত্যার ওই ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনার যথাযথ তদন্ত করতে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে কোনও প্রচেষ্টাই বাকি রাখবো না।’

পুরো ঘটনাটি ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না বলেও দাবি করেন জাভড়েকর।

এই বীভৎস ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাজারে হাজারে মানুষ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

টুইটারে পশুর বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুর জঘন্য কাজের প্রতিবাদে একের পর এক স্কেচ এবং ছবি শেয়ার করেছেন মানুষ।

কেরেলার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, হাতিটির মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বন বিভাগ মামলাটির তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

জানা যায়, এই নৃশংস ঘটনায় পুলিশ তদন্ত তারা শুরু করেছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনও কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।

হাতিটি বন থেকে লোকালয়ে চলে এলেও সে মানুষকে অত্যন্ত বিশ্বাস করত। তাই মানুষের দেওয়া সেই বিস্ফোরকপূর্ণ আনারস খেয়েও সে লোকালয়ে ছুটে বেড়িয়েছে টানা, কিন্তু কোনও বাড়ি বা মানুষের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করেনি হাতিটি।

হাতিটির মুখে আনারাস বিস্ফোরণের পর তার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুখ ও জিভ। অসহ্য যন্ত্রণা এবং খিদে নিয়ে সারা গ্রাম হেঁটে বেড়ায় সে।এই অবস্থায় হাতিটি পানি খুঁজছিল।

নিজের চেষ্টাতেই খুঁজতে-খুঁজতে হাতিটি পৌঁছে যায় ভেলিয়ার নদী পর্যন্ত। পানির খোঁজ পেয়েই সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ে নদীর মাঝে।

তিন দিন ধরে পানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি গত ২৭শে মে নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মারা যায়। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর জানা যায় যে হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

শেয়ার করুন: