চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাজারা সম্প্রদায়ের ১৩ সদস্যকে হত্যা করেছে তালেবান: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের দাবি, আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে দায়কুন্দি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের ১৩ সদস্যকে হত্যা করেছে তালেবান। নিহতদের মধ্যে মাসুমা নামের ১৭ বছরের একটি মেয়েও ছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, অ্যামনেস্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ৩০ আগস্ট তালেবানের তিনশর মত সদস্য খিদির জেলায় প্রবেশ করে। সেখানে আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এএনএসএফ) ১১ সদস্যকে হত্যা করে। যাদের মধ্যে নয়জনকে নিকটবর্তী নদীর কাছে নেওয়ার পর সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

যেসব এএনএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের বয়স ২৬ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। নিহত সবাই হাজারা সম্প্রদায়ের। যে সম্প্রদায়ের মানুষ তালেবানের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ শাসনামলেও নির্যাতিত হয়েছিলেন।

এটি অ্যামনেস্টির নথিভুক্ত হাজারা সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর চালানো দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড। এর আগে ১৯ আগস্ট প্রকাশিত অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে গজনি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জনকে হত্যা করে তালেবান।

তালেবান এবং ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের বিরুদ্ধে হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যদিও ১ সেপ্টেম্বর দায়কুন্দি প্রদেশের পুলিশ প্রধান সাইদকুল্লাহ আবেদ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তালেবানের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য রাইহানা আজাদ বলেন, তালেবানের দ্বারা সংঘটিত ৩০ আগস্টের ঘটনা ‘অমানবিক গণহত্যা’।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, এ হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, তালেবান পূর্বের মতো ভয়াবহ কাণ্ড ঘটাচ্ছে।

পূর্বে তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল সে সময় বালখ ও বামিয়ান প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের শত শত সদস্যকে হত্যার অভিযোগ ছিল এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

১৪ আগস্ট দায়কুন্দি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে সে প্রদেশের বহু বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি পালিয়ে গেলে ১৫ আগস্ট দেশটির রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

বিজ্ঞাপন