চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হলিউডে বিনিয়োগ: কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ

সিনেমার জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় কপাল খুলেছে হলিউডের কিছু বিনিয়োগকারীর…

ব্রায়ান অলিভারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিউ রিপাবলিক পিকচার্সের সাথে প্যারামাউন্ট পিকচার্সের ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তি হয়েছে গত মাসে। আগামি বছরের ‘টপ গান: মাভেরিক’ সহ দশটি সিনেমার এক চতুর্থাংশ তহবিলের যোগান দেয়া হবে এই অর্থ থেকে। বিনিময়ে তিনি সিনেমার লাভ-ক্ষতির অংশীদার হবেন।

ব্রায়ান অলিভার মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে যখন সিনেমা হলগুলো বন্ধ তখন স্টুডিওগুলোর এমন উদ্যোগ অর্থায়নে ঝুঁকি কমাবে। ফলে অংশীদাররাও সিনেমা নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। মহামারী না এলে হয়তো প্যারামাউন্ট এরকম চুক্তি কখনই করতো না, বললেন অলিভার।

বিজ্ঞাপন

সিনেমা হলগুলো খুলেনি বলে স্টুডিওগুলোকে তাদের সিনেমা মুক্তি এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজে নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে স্বাধীন নির্মাতাদের সিনেমার বাজেট বাড়াতে হচ্ছে। শুটিং বন্ধ করে দিতে হলে যে ক্ষতি হয়, তা পোষানোর মতো বীমাও নেই। ফলে স্ট্রিমারদের (ওটিটি প্লাটফর্ম) কাছে সিনেমা বিক্রির হিড়িক পড়েছে। কপাল খুলেছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের এবং প্রযোজনায় আগ্রহী আমেরিকান ধনীদের।

বিজ্ঞাপন

প্যারামাউন্ট এবং নিউ রিপাবলিকের চুক্তির মতো একাধিক চলচ্চিত্রে অর্থায়নের চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হ্রাস পেয়েছে। স্টুডিওগুলি আয়ের পুরো অংশ রাখার জন্য বিনিয়োগকারীদের আনতে চাইছিল না এতদিন। তবে করোনার কারণে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বক্স অফিসে অনিশ্চয়তা দেখা যাওয়ায় বাইরের বিনিয়োগকারীদের সাথে এখন ঝুঁকি ভাগ করে নিতে চাইছে স্টুডিওগুলো।

সাধারণত স্বাধীন প্রযোজকরা প্রযোজনার জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এতদিন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা করতেন, ছবির আয় থেকে আবার সেই ঋণ পরিশোধ করে দিতেন। কিন্তু করোনার কারণে অনেকেই সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ব্যাংকই এখন সিনেমা খাতে ঋণ দিতে চাইছে না।

অর্থের এই ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসছে অনেক পুরনো ও নতুন বিনিয়োগকারী। অর্থনৈতিক মন্দা এবং সিনেমার বাজারে ঝুঁকির কথা ভেবে প্রযোজকদের ব্যাংক ঋণ না দেয়ায় কপাল খুলেছে এই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর। চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণ দিচ্ছে তারা। ব্যাংকের তুলনায় প্রায় তিন-চারগুণ বেশি সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রযোজকরা।

এর প্রভাব পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিক কীভাবে পড়বে, তা সময়ই বলে দিবে। অনেকে মনে করছেন, সার্বিকভাবে করোনার কারণে অদূর ভবিষ্যতে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে!