চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হলিউডের ভার যে নারীদের কাঁধে

সিনেমায় নারীদের ভূমিকা একসময়ে ছিল সামান্য। সিনেমার অলংকার হিসেবে দেখা যেত তাদের। কিন্তু ধীরে ধীরে এই ধারণা পরিবর্তন হয়েছে। সাহসী ও বলিষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করেছেন নারীরা। পরিচালনায়, প্রযোজনায় বেড়েছে নারীর সংখ্যা।

লুলু ওয়াং, লরেন স্কারফারিয়া, আলমা হার’এল এবং মিন্ডি কালিং এর মতো নির্মাতারা তাদের সিনেমা দিয়ে শিরোনামে এসেছেন। অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানগুলোতে জিতে নিয়েছেন একাধিক পুরস্কার। স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোতেও তাদের জয়জয়কার। জেনে নিন তেমনই কিছু শক্তিশালী নারী নির্মাতা সম্পর্কে।

লরেন স্কাফারিয়া: স্কাফারিয়া নির্মিত ‘হাস্টলারস’ ছবিটি গত বছর বক্স অফিস মাতিয়েছিল। এই নির্মাতার আরও কয়েকটি কাজ হলো ‘নিক অ্যান্ড নোরাস ইনফিনিট প্লেলিস্ট’, ‘দ্য মেডলার’ এবং ‘সিকিং অ্যা ফ্রেন্ড ফর দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। তার কাজ দেখার জন্য দর্শক সবসময়েই মুখিয়ে থাকে।

লানা অ্যান্ড লিলি ওয়াচৌস্কি: দ্য ম্যাট্রিক্স ছবিতে সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ওয়াচৌস্কিরা। ছবির সাফল্যের পরে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আরও তিনটি ছবিতে প্রযোজনা, পরিচালনা কিংবা গল্প লেখার কাজ করেছেন তারা। ‘ভি ফর ভেনডেট্টা’ ছবির গল্প লেখা এবং পরিচালনা করেছেন তারা। লিখেছেন এবং প্রযোজনা করেছেন ২০১৫ সালের ‘জুপিটার অ্যাসেন্ডিং’ও। আগামি বছর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ম্যাট্রিক্স ফোর’ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করছেন লানা ওয়াচৌস্কি। এই ছবিতে ১৮ বছর পর ‘নিও’ চরিত্রে দেখা যাবে কেনু রিভসকে।

এমেরাল্ড ফেনেল: ‘দ্য ক্রাউন’ দিয়েই পরিচয় হলেও ‘প্রমিজিং ইয়ং ওমেন’ ছবিতে ক্যামেরার পেছনের কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন এমেরাল্ড ফেনেল। তার শক্তিশালী কাজ মুগ্ধ করেছে সমালোচকদের।

বিজ্ঞাপন

আলমা হার’এল: সেমি-অটোবায়োগ্রাফিক্যাল সিনেমা ‘হানি বয়’ পরিচালনা করেছেন হার’এল। ছবিতে তিনি একটি ছোট ছেলে এবং তার অত্যাচারি বাবার স্পর্শকাতর সম্পর্কটাকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলে জিতে নিয়েছেন ডিরেক্টরস গিল্ড পুরস্কার। এটাই তার প্রথম ফিচার ফিল। তিনি বর্তমান সময়ের শক্তিশালী নারী নির্মাতাদের একজন।

লুলু ওয়াং: গত বছর ‘দ্য ফেয়ারওয়েল’ সিনেমাটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে গোল্ডেন গ্লোব জেতার পরে ছবিটি সবার নজরে আসে। এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন লুলু ওয়াং। তার নির্মানশৈলী প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৪ সালের ‘পসথামস’ ছবিটিও তিনি নির্মান করেছেন। এবছর মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার ওয়েব সিরিজ ‘দ্য এক্সপাট্রিয়াটস।’

অ্যাডেল লিম: বহুবছর টিভি রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করলেও ২০১৮ সালের ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ সিনেমাটি পরিচালনা করে সাফল্য পাওয়ার পর, অ্যাডেল এখন সিনেমার কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

র‍্যাচেল মরিসন: সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে ক্যামেরার পেছনেই থাকেন র‍্যাচেল মরিসন। কিন্তু তার নাম বারবারই ঘুরে ফিরে শিরোনামে আসে। ২০১৮ সালে অস্কারে ‘মাডবাউন্ড’ সিনেমার জন্য প্রথম নারী হিসেবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফারের পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন তিনি। ‘ব্ল্যাক প্যানথার’ ছবিতে ফটোগ্রাফির ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। বড় বাজেটের কোনো সুপারহিরো সিনেমায় এই পদে কাজ করা প্রথম নারী তিনি। আট মাসের গর্ভাবস্থায় তিনি ‘অ্যাগেইনস্ট অল এনিমিজ’ ছবির কাজ করেছেন।

আভা দুভারনে: ২০১৫ সালে ‘সেলমা’ পরিচালনা করে আভা দুভারনে অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং প্রাইমটাইম এমি জিতেছিলেন। এরপর তিনি পরিচালনা করেছেন ‘অ্যা রিংকেল ইন টাইম।’ কোনো নারী নির্মাতার তৈরি সবচেয়ে বেশি বাজেটের সিনেমা এটি। ইঅনলাইন

বিজ্ঞাপন