চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হতদরিদ্র মানুষের পাশে মেয়র আতিকুল

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকায় অনেকের দিন কাটছে অনাহারে, অর্ধাহারে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘সবার ঢাকা’- স্লোগানে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম৷

বিজ্ঞাপন

শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পরিবারকে সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও বেড়েছে এর ব্যাপ্তি। এখন তার লক্ষ্য কম করে হলে ১ কোটি মানুষের কাছে প্রতিদিনের খাবার পৌঁছে দেওয়া।

শনিবার চ্যানেল আই নিউজের চিফ নিউজ এডিটর (সিএনই) ও চ্যানেল আই অনলাইনের এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খানের পরিকল্পনায় চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন ‘টু দ্য পয়েন্টে’ উপস্থিত হয়ে আতিকুল তার এমন পরিকল্পনার কথা জানান।

টু দ্য পয়েন্টের আজকের বিষয় ছিল, ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’।

অনুষ্ঠানে আতিকুল বলেন: আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে এটা প্রথম শুরু করি। আপনারা জানেন আমরা ১১ ভাই-বোন। আমি যখন তাদের আমার পরিকল্পনার কথা জানালাম আমার ভাই-বোন থেকে শুরু করে আমরা ভাতিজা-ভাতিজি, বোন, বোনের ছেলে-মেয়ে সকলেই আগ্রহ দেখালো।

তার পরিকল্পনা বিস্তারে চ্যানেল আইয়ের ভূমিকা তুলে ধরে আতিক বলেন: চ্যানেল আই থেকে প্রথম আমাদের ইন্টারভিউ করতে যায়। দেখাদেখি পর্যায়ক্রমে সব টিভি চ্যানেল যায়। এরপরে আমরা দেখতে পেলাম মানুষের যে আহাজারি এই কার্যক্রম শুধু আমাদের পরিবারের মধ্যে রাখলে হবে না। তখন সেটা আমরা বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন কল পাই। মানুষ একটা প্ল্যাটফর্ম চাই আমরা সেই প্ল্যাটফর্মটা তৈরি করেছি।

তিনি আরও বলেন: ‘সবার জন্য সবার ঢাকা’ আমরা আমাদের এই কার্যক্রম থেকে প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, দুইটি করে সাবান, মাস্ক এবং ১ লিটার তেল দিচ্ছি। এটা দিয়ে চারজনের একটি পরিবারের তিন দিন পর্যন্ত চলবে। আমরা প্রথমে ২৫-৩০ হাজার পরিবারকে এই সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটা মানুষ জানার পরে যে পরিমাণ ফোনকল আমরা পেয়েছি তাতে করে এক কোটি থেকে দুই কোটি মানুষের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মহতি এ কাজে সমাজের অনেক মানুষ পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে উত্তরের এ মেয়র বলেন: ইতিমধ্যে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এই চ্যানেল আইয়ের মুক্তাদির ভাই, বাবু ভাই আমার সাথে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন আমরা দিতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু আমরা কোন প্লাটফর্ম পাচ্ছিলাম না। আমাদের সালমান এফ রহমান, তিনি বলেছেন আমি দিতে চাচ্ছিলাম; কিন্তু প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছিলাম না। ব্র্যাক আমাদের সঙ্গে কাজ করবে তারা ম্যাপিং করবে যেন ডুপ্লিকেশন না হয়। আমাদের কোহিনুর গ্রুপ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ইউনুস গ্রুপ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। র্যাবের ডিজি বেনোজির ভাই আমাকে বলেছেন আমি কিছু অনুদান দিবেন। এমন অনেক মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন।

পরিবার থেকে শুরু করা হলেও এখন সমাজের অন্য মানুষেরাও পাশে এসে দাঁড়ানোয় তিনি আগের চেয়ে শক্তি পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বলেন: এই যে মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর শুরু করেছে আমরা এখন শক্তিটা পাচ্ছি। যেটা অসম্ভব একটা শক্তির জায়গা। কয়দিন আগে চ্যানেল আইয়ের সাগর ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন, তিনি বললেন আপনি যেটা করছেন অসম্ভব সুন্দর একটা কাজ করছেন। শাইখ সিরাজ ভাই আমাকে ফোন করেছেন। সালমান এফ রহমান বলেছেন কত টাকা লাগবে, আমি দিব; কিন্তু এটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ইউনুস গ্রুপের আমাদের ৪০ হাজার কেজি আলু পাঠিয়েছে। মানুষ দিতে চাচ্ছে কিন্তু উপযুক্ত প্লাটফর্মটা পাচ্ছিলো না। আমরা সেটা করে দিয়েছি। আমাদের সুবর্ণা মোস্তফা ( সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য) চাল, ডাল, আলু ট্রাকে ভরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এমন সমাজের অনেকেই আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে।

সবার জন্য সবার ঢাকা এ মহতি কাজে শুধু এরাই নয় যে কেউ চাইলেই অংশিদার হয়ে কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন বলে জানান মেয়র আতিকুল।

এ জন্য একটি বিকাশ (মোবাইল ব্যাংকিং) নম্বর জানান তিনি৷ ০১৮৪৪০৫৯৬১০ এই বিকাশ নম্বরে যে কেউ চাইলে টাকা পাঠিয়ে এ কার্যক্রমের অংশ হতে পারেন বলে জানান।

আগামী এক মাস ৫০ হাজার মানুষের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেছেন: কোনও নাগরিক যদি বাসায় থেকে আমাদের হটলাইন ফোন করে জানান, তিনি খাবার সংকটে রয়েছেন। আমরা তার বাসায় খাবার পৌঁছে দেবো।

‘‘এ জন্য আমাদের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন।’’