চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হজের খুতবা: বিশ্বজুড়ে আবারও অনন্য উচ্চতায় বাংলা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এবার সীমিত পরিসরে পবিত্র হজ পালন হচ্ছে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন হাজীরা। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাজীরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত ঐতিহাসিক এই ময়দানে অবস্থান করে হজের ধারাবাহিকতায় আল্লাহর জিকিরসহ অন্যান্য ইবাদতে মশগুল রয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এক ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে এবারের হজ। প্রতিবছর যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০-২৫ লাখ মুসলমান এসে হজ পালন করে থাকেন, এবার সেখানে সৌদি আরবে অবস্থানরত মাত্র ১০ হাজার মানুষ এই সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতি ৫০ জন হাজীর জন্য দেওয়া হচ্ছে একজন চিকিৎসক। এবারের এমন পরিস্থিতির জন্য সৌদি সরকার এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মহামারি মোকাবেলায় সৌদি সরকারের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এবার পবিত্র হজের খুতবা দেওয়া হয়েছে কয়েকটি ভাষায়। এরমধ্যে বাংলা ভাষায়ও প্রচার হয়েছে হজের খুতবা। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আরও একবার বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান জানান দিতে পেরেছে। এর মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী মানুষও সম্মানিত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশা করি।

বিজ্ঞাপন

মহামারির প্রেক্ষাপটে এবার জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা পাথর সরবরাহ করা হবে হাজীদের। অর্থাৎ সকল ক্ষেত্রেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেষ্ট হজ কর্তৃপক্ষ। পবিত্র মক্কা-মদিনার এ শিক্ষা আমাদেরও ধারণ করতে হবে। কোরবানীর সকল আয়োজনে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কোরবানীর বর্জ্য পরিষ্কারের ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন হতে হবে।

এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ত্যাগের মহিমায় কোরবানী ফরজ করেছেন। কোরবানীর মর্মই হলো ত্যাগ করার মানসিকতা বৃদ্ধি করা। এজন্য কোরবানীর সময় ভাইরাসের সংক্রমণে নিজে এবং অন্যরা যেন আক্রান্ত না হন, সেই বিষয়টি আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আমরা সবাই মিলে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবো। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।