চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হকারদের অবরোধে ছয় ঘণ্টা অচল গুলিস্তান

রোজার প্রথম দিনে দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ

রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেয়ার দাবিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ভাসমান হকাররা।

তাদের বিক্ষোভের জন্য মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রোজার প্রথম দিনই অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ এসে কয়েক দফায় বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এরপরও তারা সড়ক ছেড়ে যায়নি। পরে সমস্যা সমাধানে হকারদের একটি প্রতিনিধি দল নগরভবনে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের কার্যালয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে যায়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে হকারদের বিভিন্ন সংগঠন। ফলে পল্টন-সচিবালয় মোড় থেকে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত এলাকায় আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুটপাতে বসার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন হকাররা। তাদের দাবি,পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত তারা ফুটপাতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চায়। এ দাবি নিয়ে দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সঙ্গে দেখা করতে যায় বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু ঘণ্টাব্যাপী সেখানে অপেক্ষা করেও মেয়রের সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা ফিরে এসে আবারও গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের চারপাশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাসিম কবির বলেন, আমরা চার মাস ধরে বেকার। আমাদের কোনো আয় নেই। বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে কঠিন দুরবস্থার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছি। মেয়র আমাদের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরবো না।

হকাররা বলছেন, আমরা যে যেখানে বসতাম, সেখানে বসার অনুমতি দেয়া হোক। আমরা এ দেশেরই নাগরিক। আমাদের জন্য ফুটপাতের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যবসার জন্য দেয়া হোক। বিনিময়ে আমরা সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী টাক্স দেবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল ট্রাফিক জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) এসএম বজলুর রশিদ বলেন, ফুটপাত এবং সড়ক বেদখলের কারণে যাতে নাগরিক দুর্ভোগ না হয় সেজন্য ফুটপাত মুক্ত রাখি আমরা। এজন্য কিছুদিন আগে গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতের সকল হকারকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন তাদের যদি কোনো দাবি থাকে সেটি সিটি করপোরেশনের কাছে করতে পারে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে দিয়েও তা করতে পারে না। তাই আমরা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। যাতে দ্রুত সড়কটা স্বাভাবিক করতে পারি।