চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুঃসংবাদ বাড়ছেই

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও দেশে বন্ধ নেই সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই সড়ক মহাসড়কে তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সামনে এলো একটি পরিসংখ্যান। চলতি বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) পুলিশের ৪৬ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৬১ সদস্য নিহত হয়েছেন।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্য ৪৬ জন, সেনাবাহিনীর সদস্য ৪ জন, নৌ-বাহিনীর সদস্য ১ জন, র‌্যাব সদস্য ৩ জন, বিজিবি সদস্য ২ জন, এনএসআই সদস্য ১ জন, এপিবিএন সদস্য ১ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ৪ জন নিহত হয়েছেন।

এরমধ্যে পুলিশের মোটর সাইকেলে ট্রাকের ধাক্কা/চাপায় ২৮ জন (৬০.৮৬%), পুলিশের মোটর সাইকেলে বাসের ধাক্কা/চাপায় ৮ জন (১৭.৩৯%), পুলিশের মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ জন (৮.৬৯%) এবং পথচারী হিসেবে হাঁটার সময় ও সড়কে দায়িত্ব পালনকালে যানবাহনের ধাক্কায় ৬ জন (১৩.০৪%) নিহত হয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এর বাইরেও আরও বহুগুণ মৃত্যু হয় সড়কে। যেমন: শনিবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তেই সেখানে হারিয়ে গেছে এসব প্রাণ। এমন অনেক মৃত্যু ও দুর্ঘটনার খবরই গণমাধ্যমে উঠে আসে না।

এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেশে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর না থাকাকে দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এছাড়াও পুলিশ-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে ট্রাফিক আইন মেনে না চলা, মোটর সাইকেল চালানোর সময় পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের হেলমেট পরিধান না করা, বিশ্রামহীনভাবে ড্রাইভিংয়ের কারণে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকদের মানসিক অসুস্থতা, বেখেয়ালী ও বেপরোয়া মনোভাবের কথা বলেছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে সড়কে পুলিশ কর্তৃক বৈধ কাগজপত্র যাচাই, জরিমানা, মামলা দায়ের এবং অন্যান্য কারণে পুলিশের প্রতি যানবাহন চালকদের মনে বিরক্তিভাব তৈরি হওয়াকেও দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শহরের সড়কে যানজটের কারণে যানবাহন চালকরা মানসিক অস্থিরতায় থাকেন। এসময় পুলিশ দেখলে তাদের মধ্যে বিক্ষুব্ধ ও বেপরোয়া আচরণ সৃষ্টি হয় বলেও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মতামত দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়ক আরও বড় মৃত্যুকূপ হয়ে উঠবে। এটা কখনোই আমাদের কাম্য নয়। এসব মতামত ও সুপারিশ আমলে নিয়ে শিগগিরই সমস্যা সমাধান এবং সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন