চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতেই হবে

করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর সাথে পাল্লা দিচ্ছে যেন সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদের ছুটিতেও সড়কে একের পর ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এমনকি ঈদের দিনেও ৩ জেলার সড়কে ৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‌‘শুক্রবার সকালে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের বাগেরহাটের ফকিরহাট বৌলতলী নামক স্থানে ইজিবাইক ও মিনি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস জানায়, কাটাখালীর নওয়াপাড়া বাজারে পান বিক্রি করে বাড়ী ফেরা ৭ যাত্রী নিয়ে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ফকিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি খালি মিনি পিকআপ মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত হয়।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে ঈদের দিনও সড়কে মৃত্যুর মিছিল ছিল। রংপুর, নাটোর ও মেহেরপুরে তাদের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে রংপুরে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে নাটোরের নলডাঙ্গার বাঁশভাগে সিএনজি-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আল আমিন নামে একজন নিহত ও দুই শিশু আহত হয়েছে। একইদিনে মেহেরপুরের মুজিবনগর কেদারগঞ্জ বাজারের কাছে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনাগুলোর খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তবে বাস্তব চিত্র হলো এমন অনেক দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে উঠে আসে না। অর্থাৎ এমন অনেক দুর্ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। লকডাউন পরিস্থিতিতে সড়কে যানবাহনের তেমন কোনো চাপ না থাকলেও এতগুলো প্রাণ কেন অকালে ঝরে গেল তার কারণ উদঘাটন করে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

এতগুলো প্রাণ ঝরে পড়ার কারণ তদন্ত করলে দেখা যাবে সড়কে সঠিকভাবে আইন না মানার প্রবণতা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন এসব দুর্ঘটনার বড় কারণ। অথচ সচেতনভাবে সড়ক পরিবহন আইন মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা থাকার পরও কেন এ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না? আমরা আশা করি, আইন মেনে চলা এবং বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে দেশের সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।