চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্যার ফজলে হাসান আবেদের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী আজ

জনসেবার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠাতাকে শ্রদ্ধা জানাবে ব্র্যাক

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন উন্নয়নব্যক্তিত্ব স্যার ফজলে হাসান আবেদের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী আজ।

দিবসটি পালনে ব্র্যাক আলাদা কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশজুড়ে চলমান ব্র্যাকের সচেতনতা ও দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমেই সংস্থাটি তার প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করবে। এই সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে এক লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মী।

বিজ্ঞাপন

১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তাঁর নেতৃত্বে ব্র্যাক বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১টি দেশে ব্র্যাকের লক্ষাধিক কর্মী ১৩ কোটি মানুষের জীবন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ফজলে হাসান আবেদ পাবনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর পর ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস থেকেও ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে দেশে ফিরে ফজলে হাসান আবেদ শেল অয়েল কোম্পানিতে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শেল অয়েল কোম্পানিতে কর্মরত থাকাকালে ১৯৭০ সালের নভেম্বরে দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে ‘হেলপ’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ইংল্যান্ডে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ এবং ‘হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠন দুটির মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়, প্রচার, তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠনে কাজ করেন। একাত্তর সালের ডিসেম্বরে ফজলে হাসান আবেদ সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন। এ সময় লন্ডনে তার ফ্ল্যাট বিক্রির অর্থ দিয়ে ত্রাণ কাজ শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সিলেটের শাল্লা অঞ্চলকে কর্ম-এলাকা হিসেবে বেছে নেন তিনি। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ব্র্যাক গড়ে তোলেন।

ফজলে হাসান আবেদ ২০১০ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক ‘নাইটহুড’ উপাধি লাভ করেন। ২০১১ সালে কাতার ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ওয়াইজ প্রাইজ’ লাভ করেন তিনি। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

দায়িত্ব পালন ও অবসর গ্রহণ স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ব্যাংকেরও প্রতিষ্ঠাতা।

২০০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ১ আগস্ট ব্র্যাকের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং চেয়ার ইমেরিটাস হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২৬ আগস্ট ২০১৯ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।