চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্যাটেলাইটে মিললো কিম জং উনের প্রাইভেট ট্রেন, মৃত্যু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা

নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের ব্যক্তিগত ট্রেন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। ট্রেনটি নর্থ কোরিয়ার ছোট্ট একটি শহরের অবকাশ কেন্দ্রে অবস্থান করছিল। তবে কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক নর্থ কোরিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট ‘থার্টিএইট নর্থ’ এসব দাবি করছে বলে রোববার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কয়েকদিন আগে হঠাৎই শোনা যায় কিম নাকি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শনিবার নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো গুজবে বলা হল, ৩৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নর্থ কোরিয়ার শাসক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গতকাল কিমের মৃতদেহের ছবিসহ একটি পোস্টও ভাইরাল হয়।

বিজ্ঞাপন

থার্টি এইট নর্থ বলছে, ওই ট্রেনটি উত্তর কোরিয়ার উনসানে ‘লিডারশিপ স্টেশনে’ পার্ক করা ছিল ২১ এপ্রিল এবং ২৩ এপ্রিল। এই স্টেশনটি কিমের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। অর্থাৎ কিম পরিবার ছাড়া অন্য কেউ এই স্টেশন ব্যবহার করতে পারবে না। সম্ভবত ওই ট্রেনটি কিম জং উনের। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। নিশ্চিত হওয়া যায় নি কিম জং উন উনসান শহরে আছেন কিনা। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ট্রেনটির উপস্থিতি মানে এর কোন প্রমাণ নেই যে, তাদের নেতা কোথায় রয়েছেন অথবা তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কী।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সাউথ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সংবাদ সংস্থা নিউজইজ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, একটি বিশেষ ট্রেন দেখা গেছে উনসানে। এই ট্রেনটি ব্যবহার করেন কিম। এ সময়ে কিমের ব্যক্তিগত বিমান অবস্থান করছিল পিয়ংইয়ংয়ে। এতে আরো বলা হয়, কিম সম্ভবত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। তিনি শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন সম্প্রতি দাবি করেছে যে, হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন’র এই প্রতিবেদনকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।

সাউথ কোরিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি এন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন কিম জং উন। হংকং’র একটি টেলিভিশন দাবি করেছে, কিম জং উন মারা গেছেন। এছাড়া জাপানের একটি গণমাধ্যমের দাবি , নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন অচেতন অবস্থায় আছেন।

নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গত ১১ এপ্রিল কিম জং উনকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল । এরপর থেকে আর কিম জং উনকে জনসম্মুখে অথবা কোন গণমাধ্যম দেখা যায়নি। এমনকি কিম গত ১৫ এপ্রিল তার দাদার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও যোগ দেননি। এর আগেও ২০১৪ সালে কিম জং উন দীর্ঘদিনের জন্য উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। তখন প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিমের দেখা মেলে।