চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য বুলেটিনের মতো ‘ভ্যাকসিন বুলেটিন’ প্রচারের পরিকল্পনা

করোনাভাইরাসের টিকাদানের সর্বশেষ তথ্য দেশবাসীকে জানাতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের মতো নিয়মিত ‘ভ্যাকসিন বুলেটিন’ প্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তথ্য প্রবাহের এই সার্বিক বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই জাতীয়ভাবে শুরু হচ্ছে প্রথম ধাপের টিকাদান কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) নতুন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘করোনা বুলেটিনের মতো একটা ভ্যাকসিন বুলেটিন হবে, এটা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা। এ ধরনের বুলেটিন নিয়মিত প্রচার হলে সবাই তথ্যটা যথাযথভাবে পাবে। কারণ, এতো বড় একটা কাজের প্রচারও একটা বড় বিষয়। নয়তো একেক মিডিয়ায় একেক তথ্য আসবে। একজন মানুষ কোথায় গিয়ে টিকা নেবে, কোথায় গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবে, এসব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।’’

তবে কবে থেকে এই বুলেটিন প্রচার হবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাদেরকে নিশ্চয়ই একটা নির্দেশনা পাঠাবেন। সেখানে উল্লেখ থাকবে, আমরা কখন, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন বুলেটিন পাঠাবো। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, অফিসিয়ালি আমরা এখনো তথ্য পাইনি। তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা গণমাধ্যমকে জানাবো।’’

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে ‘জাতীয় করোনা ভ্যাকসিন বিতরণ কমিটি’র প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্যাকসিন বুলেটিন প্রচারের বিষয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন। দেশব্যাপী করোনা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন বুলেটিন প্রচারের পদক্ষেপ নেব। তবে এই বুলেটিনে কোন কোন তথ্য প্রচার হবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু ২৬ জানুয়ারি, থাকবে বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হবে ২৬ জানুয়ারি। টিকা আসার পর দুদিন তা বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে থাকবে। টঙ্গিতে বেক্সিমকোর দুটি ওয়্যারহাউজ রয়েছে। সেখান থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় টিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

প্রথমে যে ৫০ লাখ টিকা আসবে তার পুরোটাই দিয়ে দেওয়া হবে। আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় চালান আসলে সেই ৫০ লাখ ডোজও পুরো দিয়ে দেওয়া হবে।

২৫ জানুয়ারির মধ্যেই আসছে টিকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ২১-২৫ জানুয়ারির মধ্যেই দেশে করোনাভাইরাসের টিকা আসবে।

তিনি বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চুক্তি হয়েছে। বেক্সিমকো জানিয়েছে, সেরাম ইনস্টিটিউট আমাদের টিকা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যেই আমরা টিকা পেয়ে যাব।

তিনি আরও জানান, মোবাইল ফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে সবাই নিজ থেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। অ্যাপটা সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। যারা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন তাদেরও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বিভাগীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে টিকা দেওয়া হবে ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ জনকে। চট্টগ্রাম বিভাগে দেওয়া হবে ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৩ জনকে, রাজশাহী বিভাগে ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৯২২ জনকে, রংপুর বিভাগে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯ জনকে, খুলনা বিভাগে দেওয়া হবে ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪৬ জনকে, সিলেট বিভাগে দেওয়া হবে ১০ লাখ ৩২ হাজার জনকে এবং বরিশাল বিভাগে আট লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৪ জনকে টিকা দেওয়া হবে। তিন রাউন্ডে এ জনগোষ্ঠী টিকা পাবেন।