চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে মেডিক্যালের প্রশ্নফাঁস!

সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল, আর্মডফোর্স মেডিক্যাল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সন্দেহে রয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস।

ওই প্রেসে কর্মরত এমন সদস্যরা বা তাদের পরিবারের কেউ মেডিক্যাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন তদন্তকারী এই সংস্থার সাইবার ক্রাইম পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস।

গত ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূলহোতা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার দল। আসামীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু এবং সামিউল জাফর সিটু। গ্রেফতারের সময় চক্রের মূলহোতা জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয় পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করে সিআইডি। আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে কিনা, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির সাইবার ক্রাইমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, ১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে একটি প্রেস থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। ওই প্রেসে চাকরি করে এমন সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা হয়তো এসব কাজে যুক্ত থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সদস্যরা ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতা জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। যা মানি লান্ডারিং মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি। ওই মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেয় সিআইডি। যারমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছিল ৪৭ জন। এদেরমধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তদন্ত করার সময়ে ২০১৮ সালে একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। গত ১৯ জুলাই এস এম সানোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সানোয়ার ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু এবং সামিউল জাফর সিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুমন কুমার দাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী মেডিক্যাল, ডেন্টাল কিংবা আমর্ডফোস মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়াটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটা স্বপ্ন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে ফাঁসকরা প্রশ্নপত্র দিয়ে কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কিংবা আমর্ডফোস মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়। এতে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারছে না।