চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যবীমা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই চালু হোক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই প্রথম স্বাস্থ্যবীমা চালু হলো। এই স্বাস্থ্যবীমা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চালু থাকলেও আমাদের দেশে এই প্রথম। নিঃসন্দেহে এটি একটি শুভ উদ্যোগ। আমরা চাই এই স্বাস্থ্যবীমার প্রকল্পটি যেনো সুষ্ঠুভাবে কার্যকর থাকে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রেক্ষাপটে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার সুবিধা রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।পাশাপাশি জীবন বীমাও চালু করা হয়েছে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে তার অভিভাবক এক লাখ টাকা পাবেন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন: দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো সকল শিক্ষার্থীর জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করল। এর আগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এ বীমা চালু ছিল। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে সাতটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বীমা চালু করা হয়েছিল। পাইলট স্টাডির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এটার সুফল পাওয়ায় এখন আমরা সকল শিক্ষার্থীর জন্য এটা চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবীমার সুবিধাগুলো তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বীমা সুবিধা পাবেন। হাসপাতালে কেবিন বা ওয়ার্ড ভাড়া, হাসপাতাল সেবা, অস্ত্রোপচারের ব্যয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ফি, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল বাবদ দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বহির্বিভাগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় থাকবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ফি বাবদ প্রতি ব্যবস্থাপত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দেয়া হবে। স্বাস্থ্যবীমা চালুর প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবছর ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের এককালীন বার্ষিক ২৭০ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে। চলমান শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সময় যেসব নিয়মিত শিক্ষার্থী বার্ষিক প্রিমিয়ামের টাকা দিতে পারেননি,তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে লগইন করে ‘হেলথ ইন্সুরেন্স’ বাটন ক্লিক করে টাকা জমা দিতে পারবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বীমা প্রিমিয়ামের একটি জমা রশিদ পাবেন, যা সংরক্ষণ করতে হবে। বীমা সুবিধা দাবির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে এই রশিদ সংযুক্ত করতে হবে। ‘অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে’ কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে এই বীমার আওতায় অভিভাবককে এক লাখ টাকা দেয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থীর বয়স ২৮ বছর অতিক্রম করলে অথবা ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বীমা সংক্রান্ত সকল শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের অফিসে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্যবীমা চালু করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে এই বীমা চালু করে ছাত্রছাত্রীদের একটি আশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে হবে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এমনিতেই নানান ন্যায্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সময় এসেছে এখন এইসব বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার। আমরা আশা করি ছাত্রছাত্রীরা এই বীমার সুযোগ নিয়ে স্বস্থিতে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে পারবে।