চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘স্বার্থপর’ হতে বললেন পরমব্রত

বিকেলের গল্প শেষ হয়েছে। ‘শনিবার বিকেল’ এর গল্প। যেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বদলে যাওয়া তরুণ মনস্তত্ব নিয়ে সেলুলয়েড প্রকাশ ঘটবে। সেখানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তার উপস্থিতি চিত্রনাট্যের চরিত্রের প্রয়োজনে। বাংলাদেশের নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ছবিতে কাজ করবেন বলে এ পর্বে ঢাকায় আসা। ঢাকা পর্বের পুরোটা কাজ শেষ তার। ১৫ দিন কাজ হল। ১৭ তারিখ ঢাকা ছাড়বেন তিনি। তার আগে আরো এক বাস্তবিক বিকেল, সন্ধ্যা, রাত পেরিয়ে দুটো সকাল আর দেড়েক দুপুর রয়েছে হাতে। সে সময়টাতে বন্ধু আর স্বজনদের সঙ্গে বাকী রাখা আড্ডা-সঙ্গ এবং আগামীর একাধিক কাজের আনুসাঙ্গিক প্রস্তুতিতে কেটে যাবে। যে কাজের একটাতে ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার গল্পকার গাউসুল আলম শাওনের নতুন গল্পে কাজ করাটা প্রায় নিশ্চিত।

ঢাকায় ‘ফেলুদা’ বাহিনী

বিজ্ঞাপন

‘হেমলক সোসাইটি’র জীবনকে ভালোবাসতে শেখানো চেনা যুবকটির বেশভূষা অনেকটা অপরিচিত। মাথায় চুল নেই। জিন্স আর কালো লেদার জ্যাকেটে মোড়ানো। তবে তিনি পরিচিত। পরমব্রত। পরিচয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝালর থাকলেও শেকড়ে দেশভাগের আক্ষরিক যন্ত্রনা নানা ঋত্বিক ঘটকের মত তাকেও তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে নিজেকে ধ্বংস করে নয়। ভালোবাসতে শিখিয়ে এবং নিয়ম মেনেও নিয়ম ভাঙার পথ খুঁজে বেড়ানো পরমব্রত।

বলিউডে আনুষ্কা শর্মার প্রযোজনার ‘পরী’ ছবির ইউনিটের সঙ্গে পরমব্রত

অভিনয়, নির্মাণ কিংবা গান- তিনটাই আপনার ভালোবাসার। পরমব্রত আসলে কোনটার?’ অনেকটা আলগোছে কথা শুরু হয়।  মুহুর্তেই উত্তর দেন পরমব্রত, অভিনয়ের।  ‘সোশ্যাল মিডিয়ামে ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে আপনার দেশে দুই দেশের সম্পর্কের সহজিয়া ভাব তৈরীতে ও সামাজিক নানা বিষয় আর ভ্রমণ নিয়ে আপনার বেশ লেখনী দেখা যেত। এখন‘টলিউড, ঢালিউড, বলিউড হয়ে বাংলাদেশের টেলিভিশন মানে ফেলুদা আবার ভারতীয় টিভিতেও সমান সক্রিয়।’ ব্যস্ততা লেখাকে মেরে দিল?’ চটপটে উত্তর পরমের, ‘আরে দুর লেখাটা সব সময় ইচ্ছার অধীন ছিল। তবে ব্যস্ততা (হুম) বেড়েছে বেশ।’

আবারও প্রশ্ন, সোশাল সাইটে আনুষ্কার ‘পরী’ টিমের সঙ্গে ছবি দেখা গেল?’ মুচকি হেসে, ‘ওহ, আপনারাও দেখেছেন? ২ মে আসছে।’ ‘সাধের ঘুম, গীটারে গান আর দেরী করে সেটে আসা সব মাঠে মারা গেল!’ এমন জিজ্ঞাসায় হাসতে হাসতে পরমের উত্তর, ‘সে আর বলতে।’

ভারতের রাজনৈতক চরিত্রে অসহনশীলতার মাত্রাটা বেড়ে গেছে কি না প্রশ্নে পরমব্রত স্বভাববিরুদ্ধ স্বরে বলেন, ‘অস্বীকার করতে পারছিনা। তবে দক্ষিণপন্থা এখন বিশ্বজুড়েই এক অনাকাঙ্খিত সত্য।’ সচেতন শিল্পীর কি করা উচিত?’ প্রশ্নে চমকে দিয়ে পরমব্রত বলেন, ‘স্বার্থপরের মত শিল্পীর যে কাজ সেটি করতে হবে। যে গান করে গান, যে অভিনয়ের তার অভিনয়, যে লিখছে তার লেখা বা যে বাঁশি বাজায় তার বাঁশি বাজিয়ে যেতে হবে।’

কোন প্রতিবাদ হবেনা তাহলে শিল্পী এবং শিল্পের পক্ষ থেকে?’ পরমব্রতের সটান জবাব, ‘ওটাই তো প্রতিবাদ। স্বার্থপরের মত নিজের কাজটা করে গেলই তো প্রতিবাদ হবে। বন্ধ করে দিলে সেটি প্রতিবাদহীনতা।’

এরই মাঝে অংশ নিয়েছেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। বাংলাদেশ প্যানারোমায় প্রদর্শিত হয়েছে তার অভিনীত ফাখরুল আরেফিনের পরিচালনায় ২০১৭ সালের আলোচিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুদানের চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’।

সাহিত্য তার প্রিয় বিষয়ের একটি। বাংলা একাডেমিতে চলতে থাকা আন্তর্জাতিক বাংলাসাহিত্য সম্মেলনের প্রথম আসরে চলে এসেছেন। নজরুল, লালন মঞ্চ, অনেক আকাশ ডেরা বা খাবার স্টল সব জায়গা ঘুরে দেখেন। সময় কাটান উপন্যাসের গতি প্রকৃতির আলোচনায়। দেখেন সেলিম আলদীনের লেখা অথচ তার না দেখে যাওয়া নাটক ‘ধাবমান।’ 

এবার ফিরে গিয়ে আসবেন ফেব্রুয়ারীর শুরুতে। ঘুরতে নয় কাজে। ‘হলুদবনি’র অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে। ওটা শেষ করে বইমেলাটা ভালোভাবে ঘুরে একুশে ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহর ধরার ইচ্ছে আছে। যদি ব্যাটে বলে মেলে। আগের অনেক

ফিরে যাবার আগে ‘হালদা’ দেখবেন জানিয়ে পরমব্রত উল্টো চ্যানেল আই অনলাইনকে জিজ্ঞসা করেন, আচ্ছা আমি কি ইন্টারভিউ দিচ্ছি? তাহলে তো আর চলছেনা। আগামীবার এসে জম্পেশ আড্ডা দেব। শাওন ভাইয়ের বাসায় বসে। খেতে খেতে।’