চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বামী কি তার স্ত্রীর অভিভাবক হতে পারেন?

স্ত্রী স্বামীর কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নন, আর স্বামীও স্ত্রীর অভিভাবক হতে পারেন না বলে জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেমের জন্য ধর্ম পরিবর্তন, বিয়ে এবং তার সঙ্গে মৌলবাদের সম্পর্ক ও এই অভিযোগে এক নারীকে ‘বেআইনি হেফাজতে’ রাখা বিষয়ক এক মামলার শুনানি চলাকালে এমন মন্তব্য করেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে বিচারপতি এএম খানউইলকার এবং ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সোমবার ২৫ বছর বয়সী হাদিয়ার সঙ্গে তার জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আকাঙ্ক্ষা, পড়ালেখা ও শখ নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন।

তামিলনাড়ুর অধিবাসী হাদিয়া ওরফে অখিলা হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। হোমিওপ্যাথির ডাক্তার হওয়ার পথে তার শুধু এখন ১১ মাসের ইন্টার্নশিপ বাকি। কিন্তু তার আগে ধর্মান্তরিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী থেকে মুসলিম হয়ে যান তিনি। তারপর বিয়ে করেন শাফিন জাহান নামের এক ব্যক্তিকে। একটি ডেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দু’জনের পরিচয় হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এর কিছু সময় পরই অভিযোগ তোলা হয়, শাফিন জাহানের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোগাযোগ রয়েছে। তাকে খেলার গুটির মতো ব্যবহার করে আইএসের সমর্থক একটি দল কেরালায় মৌলবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আর তিনিই মগজ ধোলাই করে হাদিয়াকে ভালোবাসার নামে দলে ভিড়িয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব কথা অস্বীকার করে হাদিয়া উল্টো অভিযোগ করেন, এসব অভিযোগের অজুহাতে ‘বেআইনিভাবে’ তাকে গত ১১ মাস ধরে জোর করে বাবার হেফাজতে রেখে দেয়া হয়েছে। এখন তিনি কী চান, জানতে চাইলে হাদিয়া বলেন, তিনি মুক্তি চান, স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চান, একইসঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ ধর্মবিশ্বাস পালনের পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবে লেখাপড়া শেষ করে মানুষের সেবা করার স্বাধীনতা চান।

ওই সময় শুনানিতে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেন যেন হাদিয়াকে তার ১১ মাসের ইন্টার্নশিপ শেষ করার জন্য সালেমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কলেজকে নির্দেশ দেয়া হয় যেন কোর্স সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই হোস্টেলে কক্ষের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

তখন প্রধান বিচারপতি সালেমে তার স্থানীয় অভিভাবক কে হবেন জানতে চাইলে হাদিয়া জানান, শাফিন জাহানই তার অভিভাবক হবেন। এর জবাবে বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, ‘দয়া করে আপনার স্বামীকে জানান তিনি স্ত্রীর অভিভাবক হতে পারেন না। স্ত্রী কোনো অস্থাবর সম্পত্তি না। তিনি একজন আলাদা মানুষ যার নিজের চিন্তা চেতনা এবং মেধা আছে। আমিও আমার স্ত্রীর অভিভাবক নই। কেউ ওনাকে বোঝান প্লিজ।’

তিনি আরও বলেন, হাদিয়াকে অবশ্যই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটাতে হবে। তিন ঘণ্টার শুনানি শেষে হাদিয়াকে তার বাবার হেফাজত থেকে সরিয়ে তার হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের ডিনকে স্থানীয় অভিভাবক করে তার হেফাজতে দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন