চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে কি পেলো বাংলাদেশ?

বিশ্ব এখন প্রতিযোগিতার। কোন দেশই অন্য কোন দেশের সুনাম সহজে করতে অনাগ্রহী। প্রায় সকলেই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেকে জাহির করতে তৈরি থাকে। উপরে উপরে মিল-মহব্বত্বের স্লোগান দেয়া দেশগুলোই সময়মতো কূটচাল দিতে দ্বিধা করেন না। বিশ্ব পরাক্রমশালী দেশ এবং সেসব দেশের নেতারা পা ফেলেন হিসেব করে, কথা বলেন নিজেদের লাভ-লোকসান গুনে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ নামক লাল-সবুজের পতাকা কি প্রভাব ফেলেছে তা বুঝতে চেষ্টা করেছি লেখার মধ্য দিয়ে।

এমনিতেই সাংবাদিক হিসেবে তথ্য জানা এবং সংগ্রহ করা প্রধানতম শখ। সেই শখের বশবর্তী হয়ে ভীষণ আগ্রহ নিয়ে এই দশ দিন অপেক্ষা করেছি, হিসেব মেলাবো বলে। সবাই জানি, স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করলো বাংলাদেশ। ১০ দিনের এই অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিলো ‘মুজিব চিরন্তন’। প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফি, নারী ও বাংলাদেশ নিয়ে কালজয়ী কিছু গান, অনন্যা অপরাজিতা শীর্ষক থিম্যাটিক কোরিওগ্রাফি, গাহি সাম্যের গান শীর্ষক কয়েকটি গান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের গান ও কোরিওগ্রাফি এবং বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়েছে। কিন্তু এই উৎসব উদযাপন করে কি পেলো বাংলাদেশ- যাদের মনে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাদের জন্য আমার এই লেখা।

বিজ্ঞাপন

ইউনেস্কো মহাপরিচালক : জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুলাই বলেছেন, জাতির পিতার ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভাষণে বৈশ্বিক মানবাধিকার ও মর্যাদার মূল্যবোধও প্রতিফলিত হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাধীনতা, মানবাধিকার, মর্যাদা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির মত বৈশ্বিক মূল্যবোধের প্রতিফলনের কারণেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই ভাষণটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে স্থান পেয়েছে বলেও জানান সংস্থার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরের বছরই ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশের যে সংযোগ তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা এখনও রয়েছে, এই সহযোগিতা প্রথমত শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষায়, এই সহযোগিতা ঐহিত্য সংরক্ষণেও। ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে বন্ধনের কারণে বাংলাদেশের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন ও জামদানিসহ বিভিন্ন কিছু ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে, বলেন অ্যাজুলাই। ইউনেস্কো মহাপরিচালক বলেন, বিশ্ব যখন একটি গভীর সংকট মোকাবেলা করছে, তখন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের মত বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সহেযাগিতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্যে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রচলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন: বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন কংগ্রেসে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। কংগ্রেসওম্যান ওকাশিও-করটেজসহ আরও তিন জন কংগ্রেসের সদস্য এই রেজ্যুলেশনটি গ্রহণের জন্য জমা দেন। রেজ্যুলেশনটি বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে। রেজ্যুলেশনে বলা হয়, ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে নির্বাচনে জয়লাভের পরও পশ্চিম পাকিস্তানের মিলিটারি নেতৃত্ব ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হয়নি এবং পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করে। ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখ লাখ লোক গৃহহারা হয় এবং মৃত্যুবরণ করে এবং ৯ মাস পরে পাকিস্তান আর্মি ভারত ও বাংলাদেশ মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

ওআইসি মহাসচিব: অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-ওথাইমিন বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ৫৭টি মুসলিম দেশের জোটের এই মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে ওআইসিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকে বাংলাদেশ এই সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচিতে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে যা ইসলামিক সংহতির একটি উদাহরণ। দ্বিতীয় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ইসলামিক দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা জীবন বৈষম্য ও অবসমতা বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং সোনার বাংলা গড়ার জন্য চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। মানুষের জন্য তিনি যা করেছেন সেটি সবসময় সবাই মনে রাখবে এবং প্রশংসা করবে।

পোপ ফ্রান্সিস: ভ্যাটিক্যানের আর্চবিশপ ফ্রান্সিস বলেন, অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও আধুনিক দেশ বাংলাদেশ, সোনার বাংলা, যেখানে ভিন্ন ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের মানুষ ভাষা ও সংস্কৃতির ঐকতানে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশিদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের একটি। তিনি মনে করেন বঙ্গবন্ধু জানতেন, প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনতা, শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে গঠিত এমন বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ দিয়েই ন্যায়নিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পৃথিবী গড়া যায়। বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের শীর্ষ এই ধর্মীয় নেতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি নবীন দেশ, যার জন্য বিশেষ স্থান পোপদের হৃদয়ে সব সময় রয়েছে। পোপরা শুরু থেকেই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর পাশাপাশি প্রাথমিক সংকট মোকাবেলা এবং জাতি গঠন ও উন্নয়ন সঙ্গী বলেও জানান ধর্মীয় এ নেতা।

রাশিয়া: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন যোদ্ধা এবং রাশিয়া তাকে সেভাবেই স্মরণ করে। বঙ্গবন্ধুকে রাশিয়ার একজন সত্যিকারের বন্ধু অভিহিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার দুই মাসের মধ্যে মার্চ ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধু মস্কো সফর করেন। ওই সময়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য রাশিয়া সব সময়ই রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করার জন্য সোভিয়েত নেভির একটি দল পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ রাশিয়ার এই সমর্থনকে মনে করেছে, যা প্রশংসার যোগ্য। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। এর পাশাপাশি এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দরিদ্রতার বিরুদ্ধে ঢাকা যুদ্ধ করছে। বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ২০২৩-২৪ নাগাদ শেষ হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক অংশীদার বাংলাদেশ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২৪০ কোটি ডলারের।

যুক্তরাজ্য: জন্মলগ্নের বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে অর্ধশতকে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাকে অভিভূত হওয়ার মত ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব রচনা হয়েছিল সে সম্পর্ক আরও মূর্ত হয়েছে ৬০ হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশির মাধ্যমে, যারা প্রতিদিন যুক্তরাজ্যে অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষ করে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অসাধারণ ডাক্তার ও নার্সদের কথা স্মরণ করে তিনি, ব্রিটেন ও বাংলাদেশের সম্পর্কের আগামী ৫০ বছরের দিকে তাকিয়ে আমি আপনাদের সুবর্ণজয়ন্তীর আন্তরিক শুভকামনা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র: অগ্রগতি, উচ্চাশা ও সুযোগের দেশ বাংলাদেশ বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাইডেন। সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বাইডেন বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক দৃষ্টান্ত এখন বাংলাদেশ। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়াকে বিশ্বের সামনে ‘বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আমার প্রশাসন আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যৌথ অঙ্গীকার শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করবে।

ফ্রান্স: অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, তার জন্য দেশটি প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। শুভেচ্ছাবার্তায় এ কথা জানিয়ে ম্যাক্রো বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশি সরকার ও জনগণ আরও একবার তাদের উদারতা দেখিয়েছে। ১৯৭১ সালে ফরাসী রাজনীতিবিদ ও ঔপন্যাসিক আন্দ্রে ম্যালারাক্স বাঙালির স্বাধীনতার জন্য বিশ্ববাসীর সমর্থন চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দী পরে অর্জনগুলোর জন্য গর্ববোধ করতে পারে বাংলাদেশ। তাদের পরিবেশ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে ফ্রান্স বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জাপান: জাপানের পতাকাকে মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পতাকা চিন্তা করেছিলেন বলে মনে করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে শুগা। উৎসবে ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মনে করতেন জাপানের উন্নয়ন মডেল অনুসরণযোগ্য। জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাপানি শিশুরা ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যেমন অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে, তেমনি ১০ বছর আগে যখন জাপানে একটি বড় ভূমিকম্প হয় তখন বাংলাদেশ ত্রাণ দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক এই তিনটি জিনিষের ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রথাগত সম্পর্ক এখন আরও দৃঢ় ও মজবুত হয়েছে। স্বাধীনতার সময় থেকে সোনার বাংলা অর্জনে জাপান সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে ইয়োশিহিদে শুগা বলেন, যমুনা সেতু, ১০০ টাকার ব্যাংক নোট, সোনারগাঁও হোটেল স্বাধীনতার পরপরই তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে ঢাকায় রোড নেটওয়ার্কসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে জাপান সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করছে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত উপমহাদেশের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে জাপানের কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি জানান।

চীন: চীনের জনগণের পুরনো এবং ভালো বন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে মনে করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীন সফর করেছিলেন। চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক তৈরিতে আগে যারা অবদান রেখেছিল তাদের সবসময় স্মরণ করা উচিৎ জানিয়ে চীনের রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসাবে বাংলাদেশের উন্নতিতে চীন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন তিনি।

জার্মান: বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নয়ন অর্জন করেছে এবং উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশটিতে প্রাণবন্ত গণতন্ত্র বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার। এক লিখিত বার্তায় বাংলাদেশ নিয়ে এমন চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন জর্মানির প্রেসিডেন্ট। বার্তায় জার্মানির প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো বিশেষ করে চলমান মহামারি পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন কেবল তখনই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এ ধরণের সহযোগিতার জন্য আমাদের বহু বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দেশের মানুষের সাফল্য কামনা করেছেন।

কানাডা: ভিডিওবার্তায় কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, আমি যখন ৮৩ সালে আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলাম ওই সময় থেকে বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে, দারিদ্রতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। এরফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ব্যক্তির কারণে ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করে দেখিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন মানুষকে। বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমূল রূপান্তর হয়েছে এবং এই পথযাত্রায় কানাডা অংশীদার হিসাবে আছে। আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছি এবং নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা করছি। শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা।

তুরস্ক: বাঙালি জাতির জন্য সারা জীবনের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কদের কাতারে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর গড়ে ওঠা ভাতৃত্বের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

কম্বোডিয়া: বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে ভিডিও বার্তায় যোগ দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ১৯৭৩ সালে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। দুই মহান নেতা আলজেরিয়ায় নন-এলাইনমেন্ট মুভমেন্টের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক হয়। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯৩ সালে। গত তিন দশকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় একে অপরকে সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, আমি ২০১৪-এর জুনে বাংলাদেশ সফর করি এবং ২০১৭-তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ায় ফিরতি সফরে আসেন। ওই সময়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে অনেক চুক্তি সই হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। তিনি আরও বলেন, আমরা সম্মত হয়েছিলাম দুই দেশের জাতির পিতার নামে দুটি রাস্তার নামকরণ করা হবে।

শ্রীলঙ্কা: স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের উন্নয়নের বেশি সময় পাননি বঙ্গবন্ধু, কিন্তু তার সুযোগ্য কণ্যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এটিই হচ্ছে পিতার প্রতি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যোগ্য শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক সম্পর্ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করে, বেঙ্গল থেকে শ্রীলঙ্কাতে প্রথম অভিবাসন হয়েছিল আড়াই হাজার বছরেরও আগে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারি দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা একটি। বাংলাদেশের জনগণ আজকে দুটি উৎসব উদযাপন করছে। একটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আরেকটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাজীবন বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গলের জন্য ব্যয় করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। ১৫ আগস্টের ঘটনাকে একটি কালো অধ্যায় এবং ওইদিন বাংলাদেশ তার নেতাকে হারিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে শ্রীলঙ্কা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং অর্থনৈতিক রুপান্তর, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়ন হচ্ছে আমাদের অগ্রাধিকার। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিপিং যোগাযোগ, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ একটি বড় সুযোগ। সুমদ্র অর্থনীতির উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মালদ্বীপ: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভবিষ্যৎ অনেক প্রজন্মের প্রেরণা হিসাবে কাজ করবেন বঙ্গবন্ধু বলে মনে করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহামেদ সলিহ। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবি বাংলাদেশ সৃষ্টির ভিত্তি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছে। এই ভাষণ পরবর্তীতে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে কিন্তু তার চেতনা এখনও ভুলে যায়নি মানুষ। যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা চায় তাদের মনে বঙ্গবন্ধু সবসময় থাকবেন। বিচক্ষণ অর্থনৈতিক নীতির কারণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মালদ্বীপের জনগণকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মোহামেদ সলিহ বলেন, কোভিডের কারণে বিভিন্ন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, মালদ্বীপে বিভিন্ন মেডিক্যাল সামগ্রী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

ভারত: অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির যে দীর্ঘ ত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনকে তারই প্রতিচিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, তার অবিনাশী চেতনা আর অদম্য সাহস কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তারা পরিণত হয়েছে বিজয়ী জাতিতে। ভারতবাসী বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে একজন বীর হিসেবে, সেই ভারতবাসীর পক্ষে ২০ শতকের এই মহান রাষ্ট্রনেতার প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া সাম্য, মুক্তি আর ন্যায়বিচারের চেতনা আমাদের ভবিষ্যতেও পথ দেখিয়ে যাবে।

সোনিয়া গান্ধী: ইন্দিরা গান্ধীর পাশে থেকে ১৯৭১ সালে রূপান্তরের সেসব ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ ও মাসের একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের গর্বের অংশীদার হতে পেরে নিজের আনন্দের কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে সম্পূর্ণ ভাগ্যলিপি রচনা করেছিল বাংলাদেশের সাহসী মানুষ, যার মাধ্যমে পুরো উপমহাদেশের ইতিহাস ও মানচিত্র বদলে যায়। গত পাঁচ দশকে সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতিও অভাবনীয়, যা বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভুটান: গর্বিত বুকে বিশ্বকে বলার মত গল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে দিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশের ‘অভাবনীয়’ অগ্রগতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করার পাশাপাশি ভুটানের সঙ্গে ‘চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা লোটে শেরিং বলেন, বঙ্গবন্ধুর চেতনা চির জাগরুক থাকুক। সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বিদ্বেষ নয়। শেখ মুজিবুর রহমান উদ্ভাবন করেছেন, কারও সাথে বিদ্বেষ নয়। আমাদের রাজা উদ্ভাবন করেছেন, শান্তি ও সৌহার্দ্য সাফল্যের চাবিকাঠি। বলেন, তার মত একজন নেতা পেয়ে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে ধন্য হয়েছে। লোটে শেরিং বলেন, এই ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের মানুষের উদ্দীপনা জাগ্রত করতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন করোনাভাইরাস মহামারী অনেক মূলবান প্রাণ নিয়ে গেছে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে।

নেপাল: নেতৃত্ব গুণে বাঙালির ‘হৃদয় জয়’করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছেও ’পূজনীয়’ নেতা হিসাবে বিবেচিত বলে মনে করেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য নৈকট্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি জন্মলগ্নের সম্পর্কের কথাও বলেন নেপালের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান। বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবিরাম সংগ্রাম বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। যার জন্য অবিচল নেতৃত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা ছিল তার। সেজন্য তাকে ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, যা গোটা জাতি তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ’সোনার বাংলা’র স্বপ্নের সঙ্গে নেপালের ‘সমৃদ্ধ নেপাল, সুখী নেপালি’ সংকল্পের মিল থাকার কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ভাণ্ডারী বলেন, নেপালকে সমৃদ্ধ দেশ করার জন্য আমাদের সব কার্যক্রম। আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখবে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ছিল ষষ্ঠ।

১৭ মার্চ – ২৬ মার্চের থিম যথাক্রমে ভেঙেছে দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময়, মহাকালের তর্জনী, যতকাল রবে পদ্মা যমুনা, তারুণ্যের আলোকশিখা, ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান, বাংলার মাটি আমার মাটি, নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা, শান্তি-মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত, গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা।

নতুন আঙ্গিক, বর্নাঢ্য আয়োজন এবং সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মুক্ত করেছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন। সেই উৎসবে শ্রেষ্ঠত্বের পালক জুড়ে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এর পরেও নিন্দুকেরা মিলিয়ে নিতে পারেন অর্জন আর সফলতার বীজগুলো। বিশ্বের বুকে কতটা মাথা উঁচু করে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে তা দেশবিরোধীদের চোখে কখনই পড়বে না। উল্টা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সম্ভাবনাও তাদের চোখে খচখচ করবে। তাদের জন্য একটাই বলার, এদেশের মাটি তাদের জন্য নয়, যারা জাতির পিতার অবদানকে অস্বীকার করে, এদেশের বাতাস তাদের জন্য নয় যারা ভূখণ্ডকে অস্বীকার করে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)