চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূলমন্ত্র জানেন প্রধানমন্ত্রী: মঈন উদ্দিন মোনেম

স্বপ্নতো আমরা সকলেই দেখি, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জানি কতজন? অনেকেই স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারি না। একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূলমন্ত্র কি? ছোট পরিসরে হলেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করতে গিয়ে আমরাও সেই মূল মন্ত্রটা জেনে গিয়েছি।

শেখ হাসিনা শুধু দেশকেই নয় বিশ্বকেও দেখিয়ে দিয়েছেন দেশ গঠনে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই। বলছিলেন আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈন উদ্দিন মোনেম। টানা তৃতীয়বারের মতো ২০২০-২১ সালে সেরা রপ্তানিকারক সংস্থার পুরস্কারে ভূষিত হয় সংস্থাটি। এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণ তার একটি বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, করোনা মহামরির সময়ও বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, তা সত্যিই ঈর্ষা করার মতো। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, দূরদর্শিতা কঠোর নীতি এবং দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে।

শুধু পদ্মাসেতুই নয়, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নে যতগুলি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে, আমি নিশ্চিত তারা সকলেই এ কথাটি একবাক্যে স্বীকার করে নেবেন। কারণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল মন্ত্র জানতে হবে।

আমাদের যেটা লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিজেদের দেখতে চাই। সেটা কিন্তু অবাস্তব নয়। আপনি যদি বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল ও পরিকল্পনাগুলো খেয়াল করেন তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন যে, কিভাবে উন্নয়নের তারগুলো জোড়া লাগছে!

আপনি পদ্মার কথাই ধরেন, এই এক পদ্মাসেতু দিয়েই আমরা গ্রেটার বরিশাল, খুলনা এবং পাবনাকে ঢাকার সাথে যুক্ত করেছি। আবার এই পদ্মাসেতু দিয়েই কিন্তু ভাংগা হয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী-পায়রাবন্দরকে যোগ করেছি। পায়রাবন্দর আমাদের একটি কানেটিং জোন বা গেটওয়ে বলতে পারেন, যেটা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সাথে যুক্ত করবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদ্মার দুই পার্শ্ব মাওয়া এবং জাজিরা অংশেই কাজ করেছি। আমাদের কাজটাও কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণের সেতু হিসেবে কাজ করছে। চাইনিজরা কাজ করছে আর আমাদের কাজ হচ্ছে সহযোগিতামূলক। পদ্মার দুই পাশকে আরো বিস্তৃত করার কাজ চলছে।

ফলে এডিবির একটা ফাইন্ডিংস আছে যে পদ্মাসেতু হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.৫ অথবা ২ % বেড়ে যেতে পারে। এগুলোই কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার সূচক।

এটা শুধু জিডিপির বিষয় নয়, পদ্মাসেতু্‌ উম্মুক্ত হলে মানুষের জীবনে যে প্রভাব ফেলবে সেই প্রভাবের ঢেউ আঁচড়ে পড়বে বিশ্বেও। যেমনটা যমুনা সেতুর পর হয়েছে।

একইভাবে মেট্রোরেল প্রকল্পটিও প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শী চিন্তার ফসল। মেট্রো নিয়ে এখন যে কাজ হচ্ছে, তা উত্তরা হয়ে পল্লবী-মিরপুর-আগারগাঁও-শাহবাগ-ঢাকা ইউনিভার্সিটি হয়ে চলে যাবে মতিঝিল অব্দি। যাতায়াতে যে অতিরিক্ত সময় এতোদিন ব্যয় করতে হয়েছে, তা আর হবে না। আমরা আশা করছি এই সময় কম ব্যয়ের কারণে মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়ে যাবে বহুগুণ। বিশ্বের অনেক দেশেই মেট্রো ব্যবস্থাপনা আছে। তাদের সফলতা আমাদের চোখের সামনে। আমরা নিশ্চিত মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমে যাবে।

বিজ্ঞাপন

সব সময় মনে রাখতে হবে কঠিন বাস্তবতা বা প্রতিবন্ধকতা আপনাকে নতুন কিছু করার তাগাদা দিতেই থাকবে। আর এই তাগাদাই আপনাকে জীবন যাপনের নতুন পথ আবিষ্কারে সহায়তা করবে। সুতরাং সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা বা বাধা কোনো প্রতিষ্ঠানকে কখনোই পেছনে ঠেলে দেয় না, বরং সামনে এগিয়ে দেয়। এটাকে বাগধারার ভাষায় বলা হয় ‘শাপে বর’।

আমাদের ইকোনমিক জোনের মূল ফোকাসডই হলো ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই)। হোন্ডা আমাদের প্রোডাক্টস। হোন্ডা বাংলাদেশে প্লানট করার পর এরই মধ্যে ২ লাখের বেশি হোন্ডা গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতে পেরেছে। ফলে আমাদের দেশের বেকারত্ব কমেছে এবং আয়কর বিভাগে ভ্যাট দাতার সংখ্যা বেড়েছে। সুতরাং প্রভাব যে পড়ছে তা এবং দৃশ্যমান।

আমাদের এই সফলতা দেখে ইউএসএ এর একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। দ্রুত তাদের সাথে আমাদের একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হওয়ার কথা। সিঙ্গার বাংলাদেশও আমাদের সাথে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করে মোনেম ইকোনমিক জোন লিমিটেড।

তিনি বলেন, ভিশন-২০৪১ যে স্বপ্ন শেখ হাসিনা গোটা বাংলাদেশকে দেখিয়েছেন, তা আমাদের সকলের অংশগ্রহণে পূরণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ প্রধানমন্ত্রী দেখছেন জোনভিত্তিক উন্নয়নের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আমাদেরকেও দেখতে বলছেন জেগে জেগে। আমিও মনে করি আমাদের সকলকেই এই জোন ভিত্তিক উন্নয়নের দিকেই ধাবিত হতে হবে। কারণ সকল সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনের জন্য এর বিকল্প নেই। এক জায়গায় সবকিছু থাকলে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও কমে আসবে, কমবে পরিবেশ দূষণও।

তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। তারপরও আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমাদের উন্নয়ন বিশ্বকেও তাক লাগিয়ে দেবে। আপনি যদি মিরেরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নগরের কথাই চিন্তা করেন, তাহলে কি দেখতে পান? এ মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী এখানে জমি কিনেছেন এবং তাদের অবকাঠামো তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। আমি নিশ্চিত এখানকার তৈরি পণ্য ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়। সুতরাং যতো বেশি জোন তৈরি হবে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আর শিল্পনগরী হলেই আমাদের সোর্সিং অব ফান্ড, পণ্য সংগ্রহ এবং রপ্তানীর যে কর্মকাণ্ড তা সহজ হবে।

তিনি বলেন, তবে এটা সত্য যে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য শুধু এফডিআইই নয়, দেশীয় বিনিয়োগের জন্যও বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাটা জরুরী। এখানে খাস জমি বরাদ্দ, হস্তান্তর কিংবা মূল্য নির্ধারণে সময় এবং ব্যয় যদি সুনিদ্রিষ্ট করা যায় তাহলে সুফলটা বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত উপভোগ করতে পারবে। বাড়বে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। আমাদের এই ইস্যু নিয়ে আরো একটু আন্তরিক হতে হবে।

১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসায়ের যাত্রা শুরু করে আবদুল মোনেম লিমিটেড। আবদুল মোনেম লিমিটেডের পথচলা শুরু হয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজের মধ্যদিয়ে। পরবর্তীকালে খাদ্য, পানীয়, চিনি পরিশোধনাগার, জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায় সম্প্রসারিত করে। একে একে গড়ে উঠে ইগলু আইসক্রিম, ম্যাংগো পাল্প প্রোসেসিং, ইগলু ফুডস, ড্যানিস বাংলা ইমালসন, ইগলু ডেইরি প্রোডাক্টস, সুগার রিফাইনারি, এম এনার্জি লিমিটেড, নোভাস ফার্মাসিউটিক্যালস, এএম আসফল্ট এ্যান্ড রেডিমিক্স লিমিটেড, এএম অটো ব্রিকস, এএম ব্র্যান অয়েল কোম্পানি, সিকিউরিটিজ ও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এবং এএম বেভারেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

বিভিন্ন ব্যবসার সাথে থাকলেও ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন সংযোজিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। নেচার ফ্রেশ ব্র্যান্ডের রাইস অয়েল বা ধানের কুঁড়ার তেল নিয়ে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে যুক্ত হয়েছে তারা। রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের জন্য টাঙ্গাইলের সাগরদিঘিতে তারা থাইল্যান্ডের সুরিন নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারখানা করেছে। কোম্পানিটি নেচার ফ্রেশ ব্র্যান্ডে রাইস ব্র্যান অয়েল বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমাজের বিপদগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলে আবদুল মোনেম ফাউন্ডেশন। উক্ত ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজেশ্বরে প্রায় ৫২ একর জমি দান করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও এই ফাউন্ডেশন একটি এতিমখানা পরিচালনা ও সমস্ত খরচ বহন করে যেখানে প্রায় ৩ হাজার এতিম পড়াশোনা করে। দেশে বন্যা বা অন্য কোনও ধরনের বিপর্যয়ের সময় এই ফাউন্ডেশন ত্রাণ বিতরণ ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। ২০০৮ সালে ডেইলি স্টার-ডিএইচএল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৪ সালেই সিআইপি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে আব্দুল মোনেম লিমিটেড।
সম্প্রতি পরলোক গমন করেন দেশের সুপরিচিত শিল্পগোষ্ঠী আবদুল মোনেম লিমিটেডের (এএমএল) প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মোনেম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদের দক্ষিণ দিকে মায়ের কবরের পাশে শায়িত রয়েছেন তিনি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে আবদুল মোনেমের মৃত্যু হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় ১৭ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি কিডনির রোগেও ভুগছিলেন। ২০২০ সালে ৩১ অক্টোবর মাত্র ৮৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

বিজ্ঞাপন