চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্টোকস, ডি কক নাকি কটরেলের ক্যাচ সেরা?

বিশ্বকাপ মাঠে গড়িয়েছে সবে এক সপ্তাহ হল। সময়টাতে ব্যাট-বলের পাশাপাশি আলো কেড়েছেন ফিল্ডাররাও। ক্যাচ যেমন পড়েছে, তেমনি চোখ ধাঁধানো ক্যাচ নিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন বেন স্টোকস, শেলডন কটরেলরা।

শুরুটা করেছিলেন স্টোকস। উদ্বোধনী ম্যাচে ইংলিশদের ৩১১ রানের জবাবে ব্যাট করছিল সাউথ আফ্রিকা। একে একে গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়ায় সহজ জয়ের পথে ছিল ইংল্যান্ড। গলার কাঁটা হয়ে আটকে ছিলেন কেবল আন্দিলে ফেলুকোয়ও।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের ৩৫তম ওভারে বল করার দায়িত্ব পান আদিল রশিদ। স্ট্রাইকে ফেলুকোয়ও। প্রথম বলটাই সপাটে করেন সুইপ। মিড উইকেটে তখন ফিল্ডিংয়ে স্টোকস। বল বাতাসে ভাসতে দেখে একটু সামনেই চলে এসেছিলেন। এসে বুঝলেন ভুল করেছেন! ভুল শোধরাতে দেন লম্বা এক লাফ। লাফ শেষে যখন মাটিতে পড়লেন, ডান মুঠোয় আটকে আছে বল!

স্টোকসের সেই ক্যাচ নিয়ে হয়েছে প্রচুর আলোচনা। এটি সর্বকালের সেরা ক্যাচগুলোর একটি কিনা চলছে এমন বিতর্কও। সেই বিতর্কে আগুণ জ্বালিয়ে দিতেই যেন বিরাট কোহলির দারুণ এক ক্যাচ নেন সাউথ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক।

বিজ্ঞাপন

সাউথ আফ্রিকার ২২৭ রানের জবাবে ব্যাট করছিল ভারত। ৫৪ রানের মাথায় আন্দিলে ফেলুকোয়ওর বলে প্রথম স্লিপ বরাবর ক্যাচ দেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। স্লিপে যিনি ফিল্ডার সেই হাশিম আমলা দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্লিপের মাঝামাঝি জায়গায়। তার জন্য ক্যাচটা কিছুটা কঠিনই হয়ে পড়তো।

দ্রুত ভেবে তাই লাফটা দিতে হল ডি কককেই। অসাধারণ লাফে বল জমিয়ে ফেলেন গ্লাভসে। সেই দর্শনীয় ক্যাচে গিয়ে বসলেন স্টোকসের কাতারে।

স্টোকস, ডি ককের নতুন সঙ্গী মিলেছে এবার। বিশ্বকাপে কার ক্যাচ সেরা সেই তর্কে ক্রিকেটপ্রেমীরা মাততে পারেন শেলডন কটরেলের ক্যাচটি নিয়েও। বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে তার অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে শতকের হাওয়া গায়ে মেখেও শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানে ফিরেছেন ১৪ মাস বাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা অজি ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ!

ওশানে থমাসের করা ৪৫ ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাকওয়ার্ড ফাইন লেগে শট হাঁকিয়েছিলেন স্মিথ। আকাশে ভাসিয়ে স্মিথ ধরেই নিয়েছিলেন ছয় হতে যাচ্ছে তার শটটি। কিন্তু ক্ষীপ্রগতির দৌড়ে বলের নাগান পান কটরেল। বাউন্ডারির খুব কাছে থেকে বল তালুবন্দী করেন ক্যারিবীয় পেসার। বল ধরে দেখতে পান চলে যাচ্ছেন সীমানার বাইরে। সঙ্গে সঙ্গেই বলকে আবারও আকাশে ভাসিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পা দিয়ে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে ফিরে আসেন সীমানার ভেতরে, দ্বিতীয় দফায় বল তুলুতে জমিয়ে ফেলেন কটরেল। এবারের বিশ্বকাপ দেখে দারুণ আরেকটি ক্যাচ।

বিশ্বকাপ গড়াবে লম্বা সময় ধরে। তাই আরও দারুণ সব ক্যাচ দেখার সুযোগ থাকছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে শুরুটার জন্য ধন্যবাদ দাবি করতেই পারেন স্টোকস-কটরেল-ডি কক।