চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্কুলছাত্র বাদল হত্যা: পলাতক দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

দুই দশক আগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার স্কুলছাত্র বাদল হত্যা মামলায় পলাতক দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছেন বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই আসামি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহর বুনিয়া গ্রামের মৃত মতু হাওলাদারের ছেলে ফুল মিয়া হাওলাদার ও একই গ্রামের মফেজ মল্লিকের ছেলে শহিদুল মল্লিককে ফাঁসির রায় দেন। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বহর বুনিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরুল হাওলাদার ও মৃত আবদুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে আলী আকবর হাওলাদারকে।

বিজ্ঞাপন

আজ হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামি মনিরুজ্জামানের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ রেজাউল কবির খান। পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাবুল।

আজ হাইকোর্টের রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, ‘বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে। তবে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুইজন পলাতক রয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।

এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহর বুনিয়া গ্রামে ১৯৯৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে আসামি ফুল মিয়া হাওলাদারসহ দুই-তিনজন দুর্বৃত্ত প্রতিবেশী এলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান। এ সময় আসামি ফুল মিয়া এলাল উদ্দিনের স্কুলপড়ুয়া ছেলে বাদলের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে বাদলের বাবা এলাল ও তার মাতানজিরা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর বাদলের ঘরে গিয়ে খাটের ওপর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। আসামি ফুল মিয়ার সঙ্গে এলাল উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছ। ঘটনার দিন বিকেলে এলাল উদ্দিন বাদি হয়ে ফুল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০০১ সালের ১৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ফুল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করে আদালত। নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশের অনুমোদনের আবেদন) হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন পাওয়া মনিরুজ্জামান ফৌজদারি আপিল করেন। সেসবের উপর শুনানি শেষ হলে বুধবার রায় দেন হাইকোর্ট।