চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌমিত্র: ছিলেন আড্ডাবাজ বাঙালির আইকন

৯ নম্বর গল্ফগ্রিন রোড আজ আলো হারালো! ফেলুদা মানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়! সোনারকেল্লা, কিংবা জয়বাবা ফেলুনাথ থেকে গেলেও সৌমিত্র আর নেই! আড্ডাবাজ বাঙালির আইকন আর নেই। মরণের কাছে তিনি হার মানলেন!

স্টার থিয়েটারে পেশাদারি অভিনয়ে তিনি এনেছেন অনেক অভিনেতাকে। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তিনি দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলা সিনেমার অলিন্দে। বাবা আইনজীবী হয়েও আবৃত্তি করতেন। সেই অনুপ্রেরণা। প্রথম জীবনে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁর অভিনয়, আবৃত্তিতে তিনি বেঁচে থাকবেন জীবনের পরেও। আড্ডার বাঙালি আসরে তিনিই ছিলেন বাংলার মুখ। জীবনানন্দ থেকে সুনীলে তিনি অবাদে বিচরণরত ছিলেন। বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়াতে তাঁদের আদি বাড়ি, সেখানে ছিলেন পূর্ব পুরুষরা। বাংলাদেশের নাড়ির টান আজীবন বয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। কোভিড যুদ্ধে জিতেও, জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন জীবনের শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

‘খিড়কি থেকে সিন্ধু দুয়ার…. তার বাইরে জগৎ আছে’… প্রায় ৪১ দিনের লড়াই শেষে, জীবনের বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন মরনের ঘরে! ৮৫ বছর বয়সে চলে গেলেন, কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

তার অমরলোকে যাত্রার খবরে স্তব্ধ হয়ে যায়, বাংলা সিনেমার সুবর্ণ যুগের আকাশ! কবিতা, সাহিত্যের জগতেও তিনি মঞ্চের মতোই ছিলেন উজ্জ্বল। মঞ্চের থিয়েটার ও সিনেমাতে সমান পারদর্শী ছিলেন তিনি। ছিলেন গণআন্দোলনেও পথিকৃৎ। প্রথম জীবনের ছেলেবেলা কেটেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। কৃষ্ণনগরের সেই মানুষটি মনেপ্রাণে আজীবন বাঙালি ছিলেন! পোস্ত খেতে ভালোবাসতেন। তিনশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বহুমুখী প্রতিভার মানুষ ছিলেন।

কবিতা, গল্প, ছবি, এক্ষণের সম্পাদনার পাশাপাশি গান, আবৃত্তি, নাটক ও ছবিতেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন! রং ও রংহীনতায় তিনি আজীবন রঙিন। ১৯৫৯ তে সত্যজিৎ এর ‘অপুর সংসার’ এ তাঁর মুক্তি। “মৃত্যু আয় তোর সঙ্গে তিন পাত্তি খেলি আয়”, সেই কবি সৌমিত্র আর নেই! সত্যজিৎ এর সঙ্গে ১৪ টি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭০ এ তিনি পদ্মশ্রী পুরস্কার পান। ২০১৪ তে তিনি পদ্মভূষণ পান। ২০১২ সালে তাঁকে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার দেয়। ১৯৯৮ এ সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ পুরস্কার লিঁজিও অফ অনার পুরস্কার পান।

সত্যজিৎ ছাড়াও তিনি কাজ করেছেন মৃণাল সেন, তপন সিনহার সঙ্গে। এপ্রজন্মের বহু পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। ২০০৮ পদক্ষেপ ছবিতে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। তাঁর কন্যা পৌলমী বসু বলেন, বেলভিউ থেকে মৃতদেহ যাবে গল্ফগ্রিন এর বাড়িতে। সেখান থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে, সেখান থেকে রবীনসদনে তারপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য হবে তাঁর। তবে তিনি, বাবার মৃত্যুকে স্মরণীয় করতে তাঁর কাজ গুলোকে বাঁচানোর কথা বলেন। ডাক্তারদের পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানান।

সৌমিত্রের উল্লেখযোগ্য ছবি গুলো হল আত্মপ্রকাশের ছবি অপুর সংসার, চারুলতা, ফেলুদা সিরিজের ছবি অরণ্যের দিনরাত্রি, অভিযান, বেলাশেষে। ২০০১ অন্তর্ধান, জুড়ি ছবির জন্য পেয়েছেন একাধিক জুড়ি