চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদি বিনিয়োগ আর শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো চ্যালেঞ্জ: রাষ্ট্রদূত

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সৌদি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে অনুকূল গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ এবং বাংলাদেশের ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষে দক্ষ-অদক্ষ কর্মীদের নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করায় তার লক্ষ্য।

সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী পারস্পারিক স্বার্থের বিষয়গুলির সাথে আরো নিবিড় ভাবে কাজ করার মাধ্যমে সম্পর্ক আরো জোরদার করার সম্ভাব্য সমস্ত ক্ষেত্র ব্যবহারের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জনশক্তি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ শিক্ষা এবং কৃষি হিসেবে ব্যাপক অগ্রগতির কথা তিনি জানান।

পাটোয়ারী গত ১৪ আগস্ট রাতে সৌদি আরব পৌঁছেছেন এবং পরদিন ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রিয়াদ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

২২ আগস্ট থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সৌদি আরবের দায়িত্ব গ্রহণ করে ২৬ আগস্ট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার ক্রেডেনশিয়াল কপি জমা দেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পক্ষে তা গ্রহণ করেন ডেপুটি মিনিস্টার ফর প্রটোকল। ক্রেডেনশিয়াল কপি হস্তান্তর এর মধ্য দিয়ে মিস্টার পাটোয়ারী শুরু করেন কূটনৈতিক যাত্রা।

একদিকে বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবে অর্থনীতি অনেকটা পর্যদুস্ত। দীর্ঘ চার মাস লকডাউন কারফিউ বলবত থাকার তারপর জুলাই থেকে পুরোপুরি লকডাউন শিথিল করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন রাজকীয় সৌদি সরকার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সৌদি সরকার জারি করে স্বাস্থ্যবিধি।

এর মধ্যেও দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুখে দুঃখে প্রবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে কর্মহীন আতঙ্কগ্রস্থ প্রবাসীদের আশ্বস্ত করেন নতুন রাষ্ট্রদূত ডক্টর জাবেদ পাটোয়ারী।

এছাড়া সৌদি সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আহমেদ আল যুবায়ের, গভর্নর ফাইসাল বিন বন্দর আল সৌদ, ভারত ,সিঙ্গাপুর সহ সৌদি আরবের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, কূটনৈতিক কোরের ডিন দিয়া ইদ্দিন বামাখরামার সাথে বৈঠক করেন তিনি। জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট, মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন, মদিনা বাংলাদেশ হজ মিশন পরিদর্শন সহ ছুটে চলছেন সৌদি আরবের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। কথা বলছেন সাধারণ প্রবাসীদের সাথে।

বিজ্ঞাপন

এসময় দুটি পবিত্র মসজিদের কাস্টোডিয়ান বাদশা সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশংসা করে এই নতুন কূটনীতিক।

রাষ্ট্রদূত পাটোয়ারী বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবেও কাজ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লেসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফৌজদারি বিচার ও পুলিশ পরিচালনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং পিএইচডি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা’ শীর্ষক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ও তার সাহসিকতার খুব প্রশংসা পেয়েছিল এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ভূষিত হয়েছেন।

দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জীবনে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন এমন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রদূতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি আরবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারটি ধরে রাখা মাধ্যমে শ্রম খাতের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দৃশ্যমান কাজ করতে হবে কূটনীতিককে।

এছাড়া আন্তঃক্যাডার পররাষ্ট্র, প্রশাসন, তথ্য, এনএসআই, সামরিক কর্মকর্তা ,স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারী, স্থানীয় ভিত্তিক, স্বদেশ ভিত্তিক কর্মচারী,পররাষ্ট্র না স্বরাষ্ট্র, নাকি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী এসব অন্তর্নিহিত সমস্যা ও কোন্দল নিরসনের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানো নতুন রাষ্ট্রদূতের অনেকটা চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা পরিস্থিতি জনিত কারণে সৌদি সরকারের অনেক মন্ত্রণালয় বিভাগ বিষয়ে তার অবগত হতে সময় লাগবে। প্রবাসী বাঙালীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা সে ক্ষেত্রে আকস্মিক একটা দূরত্ব টানাপোড়নের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে অনেকে ।

নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কমিউনিটি বহুধাবিভক্ত প্রবণতাকে কিছুটা অস্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা আকস্মিক ছন্দপতনের কারণ হতে পারে।

এছাড়াও উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিক ও প্রশাসনিক ভাবে সর্বোচ্চ সততা পরিমিত উদারতা যথাযথ সর্তকতা এবং কৌশলী হবার কোনো বিকল্প নেই কারণ সর্বত্র মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এসবই কাজ করেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া করোনা মহামারী প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, করোনা পরিস্থিতির কারণে তেলের মূল্য কমে যাওয়া,পর্যটন খাতে ব্যাপক স্থবিরতা, বিভিন্ন সেক্টরে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কারণে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে কর্ম হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রবাসীদের স্বার্থ বিষয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা যা বিদায়ী রাষ্ট্রদূত কর্তৃক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো এক নোটে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কমপক্ষে ১০ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্ম হারিয়ে দেশে ফেরত যাবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা এবং অন্যান্য কারণে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ দেশে প্রেরণে প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা, অনেকটা চ্যালেঞ্জ হবে বলে জানা গেছে।