চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের কয়েকটি স্থানে ঈদ পালিত

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দেশের কয়েকটি স্থানে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে শুক্রবার।

চাঁদপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা।

বিজ্ঞাপন

হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফ সংলগ্ন বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল পৌনে ৮ টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন সাদ্রা রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কাউছার হামিদ নেছারী।

ফরিদগঞ্জের মুন্সিরহাটে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবুল খায়ের। এ সময় শতাধিক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেয়। পরে ক্রমান্বয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তিসহ ৫ উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ শুক্রবার আগাম ঈদ উদযাপন করছে। নামাজ শেষে দেশের শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

১৯২৯ খৃষ্টাব্দে দেশে আগাম ঈদের প্রচলন করেন সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালিন পীর মরহুম ইসহাক চৌধুরী। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দীর্ঘ ৯২ বছর যাবৎ এসব গ্রামে আগাম ঈদ পালিত হয়ে আসছে।

বরিশাল
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে বরিশাল নগরীর দুইটি মসজিদে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ নং ওয়ার্ডের তাজকাঠি শাহসুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদে সকাল পৌনে নয়টায় জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মো.দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলায় এই অনুসারীদের জামাত ও কুরবানি অনুষ্ঠিত হয়।

নোয়াখালী
একইভাবে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছে নোয়াখালীর ৩টি মসজিদের মুসল্লিরা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সকাল ৯টায় বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বসন্ত বাগ গ্রামের মুন্সি বাড়ির দরজা জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে, বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম জামে মসজিদে ও নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় হরিনারায়ণপুর ব্যান্ডার মসজিদের পূর্ব পাশে দায়রা ঘরে ঈদুল আযহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খলভাবে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, বসন্ত বাগ গ্রামের ঈদের জামাতে ২০০-২৫০ জন মুসল্লি, নোয়াখালী পৌরসভা হরিনারায়ণ পুর ব্যান্ডার মসজিদের পূর্ব পাশে দায়রা ঘরে ২২ জন মুসল্লি, জিরতলী ফাজিলপুর গ্রামের মসজিদে ১০০-১৫০ জন মুসল্লি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো.আলমগীর হোসেন বলেন, ৩টি মসজিদের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদুল আযহা উদযাপন করেছে।

মাদারীপুর
মাদারীপুরের ৪ উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার সুরেশ্বরী মুরিদানরা শুক্রবার কোরবানীর ঈদ উদযাপন করছেন। তবে করোনার কারণে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার এলাকার তিনটি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড়‘শ বছর পূর্ব থেকে বাংলাদেশে সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদানারা সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করে আসছে।

সে হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী, কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আন্ডারচর, কয়ারিয়া, রামারপুল ও শিবচর উপজেলার বাহেরচর, কেরানীরবাটসহ ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করছেন।

শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানী দিয়ে ঈদ-উল-আযহার মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছেন তারা।