চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিমান ভাড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী ২০ জুন রিয়াদ-ঢাকা ও আগামী ১ জুলাই জেদ্দা-ঢাকা এ ফ্লাইট পরিচালনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ফ্লাইটের ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আটকে পড়া প্রবাসীরা।

জানা গেছে, ওমরাহ যাত্রী ও ভিজিট ভিসা এবং দেশটিতে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ লকডাউনের পূর্বে যেসব প্রবাসী এক্সিট-রিএন্ট্রি অথবা এক্সিট ভিসা নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সৌদি থেকে দেশে ফিরতে পারেননি, শুধু তাদের জন্য রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ ফ্লাইট দুটি পরিচালনা করা হচ্ছে। জেদ্দা-ঢাকার জন্য বিমান বাংলাদেশের এই বিশেষ ফ্লাইটের ইকোনমিক ক্লাসের ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ৩ হাজার ৩০ রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭০ হাজার। বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ৪ হাজার ৩০ রিয়াল, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

দেশে ফেরত আসার আব্দুস সবুর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এর টিকেট ১০৭০ রিয়ালে নিয়েছিলেন কিন্তু এই টিকিট দিয়ে বিশেষ ফ্লাইটে ভ্রমণ করা যাবে না। এদিকে যে এজেন্সি থেকে টিকেট নিয়েছিলেন সেটিও এখন বন্ধ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মোঃ আব্দুল সবুর ছাড়াও ভিজিট ভিসা ও ওমরা ভিসায় এসে যেসব বাংলাদেশিরা আটকা পড়ে আছেন তারাও আছেন অর্থসংকটে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসায় যেসব বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী মক্কা মদিনায় লেখাপড়া করছেন তারাও পড়েছেন নানামুখী সংকটে।

বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরার জন্য যে পরিমাণ ভাড়া গুনতে হবে তা দিয়ে বেশিরভাগ আটকে পড়াদের দেশে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরবে করোনার কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশিরা গৃহবন্দি ও বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বিমানের এই অস্বাভাবিক ভাড়া অর্থ সংকটে থাকা এসব প্রবাসীদের বাড়ি ফেরাকে কঠিন করে তুলেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করেন, এই দুর্যোগ মুহূর্তে নির্ধারণ করা ভাড়া অনৈতিক এবং অনেকেই এই ভাড়ায় দেশে ফিরতে পারবেন না। তাদের দাবি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে বিমানে ভাড়া পুনরায় নির্ধারণ করা হোক।