চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সোশ্যাল মিডিয়ার নির্বাহীরা কেন স্বাধীনতা নির্ধারণ করবে

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব থেকে নির্বাসিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটার ট্রাম্পের আইডি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। অন্য সাইটগুলো নানা বিধিনিষেধ দিয়েছে, রিচ কমিয়ে দিয়েছে। ক্ষমতা ছাড়ার পথে থাকা ট্রাম্পের জন্যে এসব দুঃসংবাদই। বলা যায়, একের পর এক দুঃসংবাদ পেয়েই যাচ্ছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে তাকে অভিশংসিত করার প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত নভেম্বর কিংবা তার আগে থেকেই একের পর এক খারাপ খবর আসছে তার জীবনে, কিন্তু সেগুলো প্রকাশের কোন জায়গা নাই তার। যে টুইটারে তিনি হেরে যাওয়ার পরেও সেই হারকে অস্বীকার করে জিততে চলেছেন বলে ধারাবাহিকভাবে দাবি করছিলেন সেই সামাজিক মাধ্যম তার আইডিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্থায়ীভাবে নির্বাসনে পাঠানোর এই প্রক্রিয়াকে অনেকেই সমর্থন করছেন। তাদের ভাষ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক এই শাসকের পরিণতি এমনই হওয়ার কথা। এখানে ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণের প্রতি মানুষের সহজাত ক্ষোভ আছে, ট্রাম্পের অদ্ভুত মানসিকতার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ আছে, আছে সর্বশেষ ক্যাপিটল হিলে তার সমর্থকদের কর্তৃক নজিরবিহীন হামলার প্রতিবাদও। এই ক্ষোভ, প্রতিবাদের বিপরীতে আমরা ক’জন ভেবে দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষের বাকস্বাধীনতা হরণের অবাধ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলে সামষ্টিক এই ক্ষতি দেখার দরকার আমাদের।

বিজ্ঞাপন

টুইটার, ফেসবুক কিংবা অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রাইভেট কোম্পানির কাছে মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণের যে নজির স্থাপন হয়েছে সেটা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে দিয়ে বড়ধরনের প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানে কেবল একজন ব্যক্তিই নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দিয়ে বাকস্বাধীনতা হরণের যে বড় নজির স্থাপন করেছে সামাজিক মাধ্যমগুলো বিশেষত টুইটার সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। টুইটারের এই ভূমিকার পর বাকস্বাধীনতাকে নিয়ে কাজ নিয়ে বৈশ্বিক সংস্থাগুলো টু-শব্দটি করছে না। এখানে অন্যদের মত তারাও বিদ্বেষপ্রসূত ভূমিকায় অবতীর্ণ। অথচ এখানে ব্যক্তিকে না দেখে ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতাকে আমলে নেওয়ার দরকার ছিল তাদের।

ক্যাপিটল হিলে হামলার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে একের পর এক অসত্য বলেছেন সত্য, কিন্তু তিনিও হামলা চলাকালে এবং এরপর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহবান জানিয়েছিলেন। এই হামলার দায় তার ওপর গিয়ে বর্তালেও তার আইনি প্রতিবিধানের পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। তার নানা ওজর-আপত্তি সত্ত্বেও আর ক’দিন বাদে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাচ্ছেন। ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকলেও ক্ষমতা ছাড়ার পর সেটা অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এছাড়া আইনি এ প্রতিবিধানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত বিষয়। এখানে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির হস্তক্ষেপের, এখানে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির নাক গলানোর সুযোগ নেই। এখানে বলা দরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি-আচরণসহ অনেককিছুই আমাদের পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানি কর্তৃক তার বাকস্বাধীনতা হরণকে সমর্থন জানাতে পারি না। বাকস্বাধীনতা চিরায়ত স্বাধীনতা যার সুরক্ষা দেবে রাষ্ট্র, এখানে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা পদস্থ কেউ কারও স্বাধীনতাকে এভাবে হরণ করার পর বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর চুপ হয়ে বসে থাকাটাও ঠিক হচ্ছে না।

এইসময়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। এখানে সামাজিক মাধ্যমসহ নানা টেক জায়ান্ট প্রভাবশালী ভূমিকায়। ব্যক্তি, সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, দেশীয়, বৈশ্বিক সকল কিছুর আলোচনা হয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। আলোচনায় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকে, আর এই অংশগ্রহণে তাদের ব্যবসাও রয়েছে। মানুষের অতি-নির্ভরশীলতায় তারা লাভবান হচ্ছে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে, তবে এই ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে তারা যদি মানুষের বাকস্বাধীনতার নিয়ন্তা হয়ে যায় তবে সেটা ব্যবসার নীতির সঙ্গে রীতিমত সাংঘর্ষিক। ফেসবুক, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ এমন মাধ্যমগুলো ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে তারা কেন মানুষের বাক স্বাধীনতা বিষয়ে অযথা হস্তক্ষেপ করবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার আইডি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ঘটেছে সামাজিক মাধ্যমের শক্তির প্রদর্শনী। ইউটিউব, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাটসহ নানা মাধ্যমে ট্রাম্প যে বিধিনিষেধের মুখে পড়েছেন সেটাও তাদের ক্ষমতার প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী ঘটল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে দিয়েই, বড় পরিসরে। এসব মাধ্যমের কোটি কোটি ব্যবহারকারী একইভাবে এই বিধিনিষেধের মধ্যে যে রয়েছেন তা বলার বাহুল্য। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ওই যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আদতে সকল ব্যবহারকারীকেই একটা বার্তা দিলো যে কারও বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল একা তাদের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির সিইও অথবা অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে এভাবে বাকস্বাধীনতা বন্ধক কিন্তু মানুষ দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভুয়া খবর, উসকানি আর উগ্রবাদ ঠেকাতে কী করেছে এ নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলাই যায়। তাদের পলিসিতে এ ধরনের অনেক কথা লিখা থাকলেও প্রয়োগের ক্ষেত্র সীমিত, অথবা যেখানে প্রয়োগ আছে সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা নিলে বলা যায় এখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উগ্রবাদের প্রচার আছে, উসকানিমূলক প্রচারণা আছে, হেইটস্পিচ আছে; কিন্তু সেগুলো খুব বেশি আমলে নেওয়া হয় না। উল্টো এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে দেশ-স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষত ফেসবুকে ব্যান খেতে হয়। আমার নিজের ফেসবুক বন্ধুতালিকার অনেককেই এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় প্রায়ই। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর গণরিপোর্টের কবলে পড়ে আইডি হারাতে হয়েছে অনেককেই। অনেকেই নির্দিষ্ট সময়সীমার ব্যান খেয়ে ফিরে এসেছেন ঠিক তবে পুনর্বার নানা বিধিনিষেধের মুখেও পড়ছেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও এখানে সুখের নয়। আমরা যে অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা করে থাকি সেখানেও কয়েকদিন পর পর ফেসবুকের নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়। ওসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেজে রিচ কমে যায় আশঙ্কাজনক হারে। এমন কিছু ঘটলে সেটা ঠিক হতেও অনেক সময় লাগে। এখানে ফেসবুকের স্থানীয় ফ্যাক্টচেকার বলে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়েও আপত্তি আছে অনেকের। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেশবিরোধী চক্রের সদস্যদের বহুল উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। এই ধরনের অভিযোগ খুব শক্ত, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ে কখনই কিছু বলে না।

ইন্টারনেট মুক্ত ও স্বাধীন মাধ্যম। কিন্তু এখানে এই হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়ার মত না। ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা আবদুর রহিম যার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ এখানে হোক না কেন এটা সমভাবে আপত্তির। এখানে কার আইডি বন্ধ হলো, কে অন্যায় বিধিনিষেধের মুখে পড়ল সে নামগুলো আলোচনায় এনে তার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষকে সামনে না এনে বলা যায় এটা অদূর ভবিষ্যতে মুক্ত ও স্বাধীন মাধ্যম ইন্টারনেটের ওপর টেক জায়ান্টদের হস্তক্ষেপে আরও বেশি উদ্ধুব্ধ করবে। ফলে স্বাধীন এই মাধ্যম নির্দিষ্ট কিছু প্রাইভেট কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। নিজেদের ক্ষমতার প্রদর্শনী ঘটাতে তারা আরও বেশি বেপরোয়া যে হয়ে ওঠবে না সে নিশ্চয়তা কে দেবে!

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টুইটারের শাস্তিমূলক এমন ব্যবস্থা গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডর্সি বলেছেন, ‘ট্রাম্পকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি উল্লাস বা গর্ব বোধ করেননি’। তার কথা থেকেই বুঝা যায় তারা যে কাজটি করেছেন সেটা নিয়ে তারাও সন্তুষ্ট নন। এখানে অবশ্য বলা যেতে পারে তারা বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কেন বাধ্য হলেন? এটা ‘শৃঙ্খলা রক্ষার্থে’ দাবি করা হলেও আদতে এখানে রাজনৈতিক অভিরুচি, পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার কি ছিল না? তারা এটা অস্বীকার করলেও বাস্তবতা কিন্তু সে প্রমাণ দেয় না। আলোচনার খাতিরে কেবল আমেরিকার নেতাদের এখানে আলোচনায় আনা হলেও দেশটির অনেক যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ পদস্থ অনেকেই কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের মুখে পড়েননি। আমেরিকার অনেক যুদ্ধবাজ নেতা দেশে-দেশে যুদ্ধ বাঁধালেও তাদের কেউ কোনো প্রাইভেট কোম্পানি কর্তৃক এমন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েননি। এখনও তাদের আইডিগুলো সচল এবং সম্মানের সঙ্গে রয়েছে। কোথায় টুইটার, কোথায় ফেসবুক, কোথায় স্ন্যাপচ্যাট, কোথায় বিগ টেকগুলো, কোথায় সিলিকন ভ্যালির অনির্বাচিত নির্বাহীরা?

সম্প্রতি প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, দ্য ইকনোমিস্ট সাময়িকী ‘বিগ টেক অ্যান্ড সেন্সরশিপ’ নামে এক নিবন্ধে মন্তব্য করেছে- ‘সিলিকন ভ্যালির অনির্বাচিত কিছু নির্বাহীর হাতে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকা উচিত নয়’। মন্তব্যটা যথার্থই। একই প্রতিবেদনে জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মুখপাত্রের একটা মন্তব্য প্রকাশ হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। এতে হস্তক্ষেপ করতে হলে তা করতে হবে আইনপ্রণেতাদের তৈরি আইন ও কাঠামোর ভেতর দিয়ে, কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত দিয়ে নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করাটা সমস্যাজনক।’ মার্কেল-ট্রাম্প রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের দিক থেকে যেখানেই অবস্থান করুন না কেন মার্কেলকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ইত্যকার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়েছে, এবং এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর ক্ষমতার প্রদর্শনী দেখেই।

শাসক হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই খারাপ হোন না কেন সোশ্যাল মিডিয়ার নির্বাহীদের দ্বারা তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা অনুচিত। আইনপ্রণেতাদের তৈরি আইন ও কাঠামোর মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দেখা উচিত। প্রাইভেট কোম্পানির নির্বাহীদের দ্বারা কারও বাকস্বাধীনতার সীমারেখা টেনে দেওয়ার চেষ্টা রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই অস্বীকার করার নামান্তর, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। আমেরিকার আইন ট্রাম্পের স্বাধীনতা নির্ধারণ করবে, প্রাইভেট কোম্পানির নির্বাহীরা নয়; আমাদের আইন আমাদের স্বাধীনতা নির্ধারণ করবে, সোশ্যাল মিডিয়ার একপেশে পুলিশিং ব্যবস্থা নয়!

অনির্বাচিত নির্বাহীদের হাতে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছেড়ে দিলে সেখানে জবাবদিহির জায়গা থাকে না; আর যেখানে জবাবদিহি নাই সেখানেই ভর করে স্বেচ্ছাচারিতা। সোশ্যাল মিডিয়া কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার আচরণ তাদের সীমা লঙ্ঘন!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)