চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৈয়দ হককে নিয়ে যা বললেন তারা

সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসে নানা ভাবে তাকে
মূল্যায়ন করেছেন অনেকেই। সৈয়দ হকের শেষযাত্রার আগে এসব শোকবার্তায় উঠে
এসেছে নতুন সব তথ্য।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ
নি:শ্বাস ত্যাগ করার পর বুধবার সকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে এবং কেন্দ্রীয়
শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যোগ দেন অনেকই।

শোককে শক্তিতে
পরিণত করে এগিয়ে যাবো: আনোয়ারা সৈয়দ হক

সদ্য প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হকের শোকার্ত স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন,
উনি বলে গিয়েছেন, জীবন্ত, চলমান, অগ্রসরমান সব শোককে কাটিয়ে উঠে, শোককে শক্তিতে পরিণত
করে আমরা অবশ্যই সামনে এগিয়ে যাবো। শোক কিছুতেই আমাদের প্রতিহত করতে পারবে না। শোক
শোকের জায়গায় থাকবে কিন্তু আমরা এগিয়ে যাবো আমাদের জীবন নিয়ে।


তাকে ক্ষমা
করে দেবেন: দ্বিতীয় সৈয়দ হক

সৈয়দ শামসুল হকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, তিনি যেভাবে বিদায় পাচ্ছেন
সেটা হয়তো তারই কোনো কর্মফল। একটা মানুষের ৮০ বছর ৯ মাসের জীবন যাপনে কোনো ভুল ক্রটি
 থাকতে পারে। হয়তো কাউকে কষ্ট দিয়েছেন, আমি
ছেলে হিসেবে বলছি, আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।


তার স্নেহ,
সাহস, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমাদের সঙ্গে আছে: শাইখ সিরাজ

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, চ্যানেল আই
পরিবারের অন্যতম সহযোগী ছিলেন তিনি। চ্যানেল আইয়ের জন্মলগ্ন থেকে তার স্নেহ, সাহস,
ভালোবাসা ও পরামর্শ  আমাদের সঙ্গে আছে। তিনি
যেমন বাংলাদেশের বিবেক ছিলেন, ছিলেন বাংলাদেশের সংকট মুহূর্তে আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের
জন্যও তেমনই একজন মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি নিশ্চয়ই কল্যাণমূলক কিছু করেছেন তার লেখনীর
মধ্যে দিয়ে যা আমাদের দেশের ও মানুষের কল্যাণের জন্য এবং দেশ বিনির্মাণে সাহায্য করবেন।
আমরা তার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করবো যেন তিনি পরকালে শান্তিময় জীবন যাপন করতে পারেন।


আমার অনেক
সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি: রাজ্জাক

নায়ক রাজ রাজ্জাক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি আমার অনেক সিনেমার চিত্রনাট্য
লিখেছেন। সেগুলোতে আমি অভিনয় করেছি। আমার ‘অভিযান’ সিনেমার চিত্রনাট্য করে দিয়েছিলেন
তিনি। একটি বাবা হিসেবে দায়িত্ব থাকে তার সন্তানের প্রতি কিন্তু সব্যসাচী লেখক সৈয়দ
শামসুল হকের দায়িত্ব ছিলো সারাদেশের প্রতি। তার স্মৃতির প্রতি যেন শ্রদ্ধা জানাতে পারি
এটি সবার প্রতি আমি অনুরোধ করছি।

যৌবনের প্রতীক ছিলেন
তিনি: আবুল হায়াত

নাট্যজন আবুল হায়াত বলেন, হক ভাইকে আমরা সবসময় মনে করতাম যৌবনের প্রতীক। এতো
বয়স নিয়ে যে একজন তরুণ থাকতে পারে তা দেখেছি হক ভাইকে। পাশাপাশি নবীনদের সঙ্গে উনার
সখ্যতা খুব বেশি ছিলো। আর এগুলোই প্রমাণ করতো হক ভাই সবার প্রাণশক্তি ধারণ করেন।


বিজ্ঞাপন

লেখকদের জন্য তিনি
বটবৃক্ষ ছিলেন: আসাদ চৌধুরী

কবি আসাদ চৌধুরী সৈয়দ শামসুল হক স্মরণে বলেন, মৃত্যুকে সামনে রেখে এমন সৃজনশীল
একটি মানুষ আমাদের চোখেতো আর নাই। এবং এতো বহুমাত্রিক প্রতিভা বাংলা সাহিত্যে শিগগিরি
আর আসবে না। আর আমরা যারা লেখালেখি করি তাদের জন্য তিনি বটবৃক্ষ ছিলেন।

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, তার সবসময় বুক জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ
এবং বঙ্গবন্ধু।

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সারা বাংলার সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে
যুক্ত করেছিলেন তিনি।

নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, বড় ধরনের ঘটনা যে সৈয়দ হকের মতো মানুষ নাটককে উচ্চমাত্রায়
নিয়ে গেছেন। এবং কয়েকটি নাটক লিখেই তিনি বাংলা নাটকের জগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, আমি রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরকে দেখেনি, নজরুলকে দেখেনি, সুকান্ত, জসীম উদ্দিন কাউকে দেখেনি কিন্ত নিজের চোখে
সৈয়দ শামসুল হককে দেখেছিলাম।


তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, কোনো ব্যক্তি শামসুল হক হন, উনি বাংলাদেশের ইতিহাসের ব্যক্তিত্ব। তাই শামসুল হক হাতের এপিঠ ওপিঠ হয়ে আছেন।  

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, গঠন প্রক্রিয়া
খুব পরিস্কার বলতে পারতেন, চরিত্রের গঠন, কাহিনীর গঠন, সব মিলেমিশে একটা বৈজ্ঞানিক
দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখতেন কিন্তু কোনো লেখাই আবেগহীন ছিলো না। কাঠামোর মধ্যে থেকে আবেগ
ও রস কিভাবে সঞ্চারিত করতে হয় তা তিনি জানতেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, জনগণের মানুষ ছিলেন শামসুল হক। তিনি
দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন যেটা ছিলো তার জীবনের মূলকাজ।

বিজ্ঞাপন