চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সে তো পুলিশ, সে কী আর মানুষ!

“আজ আর শাহবাগে কোন ভীড় নেই, রাস্তায় নেই কোন ব্যারিকেড,আজ আর প্রেসক্লাব চত্বরে মাইকে উচ্চস্বরে নেই কোন স্লোগান.. নেই কোন মানববন্ধন, মিছিল বা প্রতিবাদী পোস্টার অথবা নেই কোন মোমবাতি প্রজ্জ্বলন বা সংহতি প্রকাশের আয়োজন.. হয়নি কোথাও প্রতিবাদের গান,কবিতা বা পথনাটক, ব্যানার, চিকা মারা দেয়াল, প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি কোথাও কিছু নেই হত্যা হয়েছে এএসপি শিপন কি তবে আসে যায়? সে তো সরকারী কর্মচারী সে তো এসেছিল দেশ সেবায় সে তো পুলিশ
সে কি আর মানুষ?’’

এ শব্দমালাটি সামাজিক মাধ্যমে অনেকেরই নজরে এসেছে। প্রতিটি শব্দে প্রকাশ পাচ্ছে স্বজন হারানোর অসহায়ত্ব। যা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সমাজের বিবেকহীন বর্বরতাকে। মানুষ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে এমন ঘটনা আজকাল অহরহ ঘটছে দেশে। কিন্তু হাসপাতালে একজন রোগীকে সেবা দেয়ার পরির্বতে পিটিয়ে মেরে ফেলাকে সত্যি মেনে নেয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন অসুস্থ হলে তার জন্য চিকিৎসাগত ব্যবস্থা না নিয়ে ৮/১০ জন ব্যক্তি মিলে মারধর করাটা রহস্যময়। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত এএসপি শিপন চিকিৎসা পাওয়ার আশায় হাসপাতালে গিয়েছিল, এভাবে মরতে নয়।

এ মানুষটি তার মেধা দিয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল মানুষের সেবা দিতে। কোভিড -১৯ এ জীবনকে তোয়াক্কা না করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তার এমন নৃশংস মৃত্যুতে এক নির্বাক নিস্তব্ধতা সবখানে।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত এ সমাজে পুলিশ যেন এক ভিন্ন প্রজাতি। পেশাগত পরিচয় দিতে গিয়ে ভুলে যায় পুলিশ ও মানুষ। তাদের ও ঘর পরিবার পরিজন রয়েছে। স্বজন হারানোর যন্ত্রণাতে তাদের আপনজনরা বেদনাকাতর হয়।

আইনের বিধান মেনে অপরাধীদের সাজা হবে কি হবে না তা আদালতের বিবেচ্য বিষয়। তবে সিনিয়র এএসপি শিপনের হত্যার দাবি নিয়ে নেই কোন প্রতিবাদ। এটা কি সে পুলিশ বলে? নাকি বিশেষ পেশার ব্যক্তি বলে বিষয়টাকে এড়িয়ে যাচ্ছে সমাজ ও মানবিক সংগঠনগুলো।এ প্রশ্নের উত্তর মেলানো হয়তো সম্ভব হবে না।

তবে এএসপি আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যু এ সমাজকে করেছে লজ্জিত। তাই পুলিশ বাহিনীর একজন পুলিশ নয় ; এক সন্তান হারিয়েছে তার পিতাকে সে ভাবনাটা অনুধাবন করে সম্মিলিত স্বরে একবার বলুন “We Want Justice “। তাহলেই জনগণের সেবক পুলিশ বাহিনী নিজেদের স্বজন হারানোর যন্ত্রণাতে খুঁজে পাবে জনগণের সহমর্মিতা ও সমবেদনা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)