চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে মানববন্ধন

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক সীমিতকরণ এবং রাত্রিযাপন নিষিদ্ধকরণ ও নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক স্মারকলিপি দেন।

বিজ্ঞাপন

টুয়াকের প্রধান উপদেষ্টা মুফিজুর রহমান মুফিজ বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১২৫০ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণে না আসার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে বিমুখ হবে। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ ব্যবসা ক্ষতি হওয়ার সাথে সাথে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠা কক্সবাজার পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি সাধিত হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ঘিরে পর্যটক ভ্রমণ সেবা প্রদানের মাধ্যমে দুই শতাধিক ট্যুর অপারেটর ও পাঁচ শতাধিক গাইড এবং লক্ষাধিক পর্যটকসেবি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের কর্মসংস্থান হারাবে।

বিজ্ঞাপন

টুয়াক সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য মন্ত্রণালয়ে বসে একটি চক্র এই হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বিশ্বের নন্দিত পর্যটন নগরীকে কক্সবাজারকে পিছিয়ে দিয়ে কুয়াকাটা ও সুন্দরবনকে প্রমোট করার অপচেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পর্যটনকে ভালবেসে বাৎসরিক মাত্র ৫ মাস ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়ে উদ্যোগক্তাগণ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এই হটকারি ও কক্সবাজারের পর্যটন ধ্বংসকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে এই বিনিযোগকারীরা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। পাশাপাশি কর্মরত তিন লক্ষাধিক মানুষ ব্যবসা ও কর্মসংস্থান হারাবে। মানুষ মারা এই সিদ্ধান্ত আমরা কখনো মেনে নেবো না। অচিরেই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে। প্রয়োজনের প্রাণ দেবো।

সেন্টমার্টিনের পর্যটন সীমিত করা হলে স্থানীয় জনগণ পূর্বের অবস্থায় ফিরে গিয়ে সমুদ্র হতে মাছ আহরণ, প্রবাল উত্তোলন, প্রবাল পাথরকে নির্মাণ কাজে ব্যবহার, মাছের অভয়ারণ্য ধ্বংস, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে নানা উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করবে। এতে দ্বীপের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে বলেন টুয়াক সভাপতি।

মানববন্ধনে সেন্টমার্টিনের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠনের লোকজন অংশ নেন। এছাড়াও পর্যটন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট শত শত লোকজন অংশ নেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ঘিরে সাতটি দাবি তুলে ধরেন টুয়াক।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সম্পাদক এস কাজল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের প্রধান অতিথি ছিলেন টুয়াকের প্রধান উপদেষ্টা মুফিজুর রহমান মুফিজ। বক্তব্য রাখেন টুয়াকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এম.এ হাসিব বাদল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস.এম কিবরিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার কামাল, সহ-সভাপতি হোসাইন আহামদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ্ দৌলা আশেক, সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম জিহাদী।