চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সুশান্তের মৃত্যুকে পুঁজি করে ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’

বলিউডের প্রযোজক সংস্থার বিবৃতি:

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিখুঁত নয়, এটা স্বীকার করে ভারতের প্রযোজক সংস্থা। কিন্তু এটা ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি শিল্প এবং পুরো বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। শুক্রবার প্রযোজক সংস্থাটি কথা বলেছে ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে কঙ্গনার প্রচারণা প্রসঙ্গে।

১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে কঙ্গনা সহ অনেকেই ইন্ডাস্ট্রির স্বজনপোষণ এবং মাদকের ব্যবহার নিয়ে কথা বলছেন। কঙ্গনা সম্প্রতি দাবী করেছেন, বলিউডের ৯৯ শতাংশ মানুষই মাদকাসক্ত।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রযোজক সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘গত কয়েক মাসে ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সম্মানের ওপর একের পর এক আঘাত হানা হয়েছে। সম্ভাবনাময় এক তারকার দুঃখজনক মৃত্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে ইন্ডাস্ট্রি এবং এর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

‘বাইরে থেকে যারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন, তাদের জন্য এটা একটা ভয়ঙ্কর জায়গা; এরকম চিত্র তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়।’ বলা হয় প্রযোজক সংস্থার বিবৃতিতে।

‘অন্যান্য সেক্টরগুলোর মতোই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও খুঁত আছে। ইন্ডাস্ট্রির আরও উন্নত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত, শেখা উচিত, খারাপ বিষয়গুলো আগাছার মতো উপড়ে ফেলা উচিত। কিন্তু পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে একই তুলি দিয়ে রং মাখানো উচিত নয়।’

ইতিবাচক দিক গুলো তুলে ধরে প্রযোজক সংস্থা থেকে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে হাজারও মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, পর্যটক বেড়েছে ইন্ডাস্ট্রির কারণে। এটা ভারতের শক্তিশালী একটি শিল্প। লক্ষ-কোটি মানুষের বিনোদনের মাধ্যম। ভারতের সম্মান বাড়িয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রি। পুরো দেশের সব স্থানের মেধাবীদেরই আপন করে নেয় এই ইন্ডাস্ট্রি।’

তবে ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার শুরু করাটা খুব সহজ না, তা স্বীকার করে প্রযোজক সংস্থাও। এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আমরা কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ভিত্তিহীন বলছি না, কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান গড়ে নিতে অনেকেরই কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু যে কোনো ক্ষেত্রেই শুরুতে বাধা থাকে, চ্যালেঞ্জ থাকে। কিন্তু যার মেধা আছে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না’।

‘এমন অনেক অভিনেতা, লেখক, সুরকার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, সাউন্ড ডিজাইনার, প্রোডাকশন ডিজাইনার, কস্টিউম ডিজাইনার, আর্ট ডিরেক্টর আছেন যাদের ইন্ডাস্ট্রির সাথে আগে কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু নিজেদের মেধা এবং কাজের কারণে তারা অবস্থান করে নিয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে জন্ম নিলে প্রথম ছবির ক্ষেত্রে হয়তো সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু এরপর টিকে থাকতে মেধা লাগে।’

পুরো পৃথিবীতেই কঠিন সময় চলছে এখন। এই সংকটময় সময়ে একে অন্যের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ইন্ডাস্ট্রির জন্য। এমনটাই বলা হয়েছে প্রযোজক সংস্থার বিবৃতিতে।