চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী মারা গেছেন

কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। রবিবার বিকেলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর মহাখালীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আলাউদ্দিন আলী ছেলে শওকত আলী রানা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, সাড়ে ৫ টার দিকে আলাউদ্দিন আলীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশ বরেণ্য এই সংগীত ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সংগীত ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার ভোরে শারীরিক অসুস্থতা বাড়লে আলাউদ্দিন আলীকে হাসপাতালের লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়।

চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। জানা যায়, তার শরীরে অক্সিজেন মাত্রা খুব কম ছিল। তীব্র শ্বাসকষ্ট অবস্থায় দ্রুত তাকে ভেন্টিলেটরে ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন আলাউদ্দিন আলী ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন।

২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দিন আলীকে ব্যাংকক নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তার ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। এরপর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছিল।

এর আগে বেশ কয়েক দফায় তাকে মহাখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বাংলাদেশ ও ব্যাংককে তার চিকিৎসা হয়েছে।

আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গান লিখে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।

গুণী এই মানুষের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী।

সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি।

অসংখ্য সম্মাননা ছাড়াও আলাউদ্দিন আলী আটবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।