চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুপার ওভার হবে চার বছর আগেই জানতেন আর্চার!

ক্রিকেট ইতিহাসে সূচনা হল নতুন যুগের। লর্ডসে সুপার ওভার রোমাঞ্চের পর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তবে অন্য কেউ না জানলেও এই ম্যাচ যে সুপার ওভারে গড়াবে সেটা আরও চার বছর আগেই জানতেন জফরা আর্চার! শুধু তাই নয়, এই ম্যাচে সুপার ওভারে কত লাগবে সেটাও জানতেন বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার!

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনালে যাবে, তাও কি আগে থেকে জানতেন আর্চার? উত্তর, হ্যাঁ! কীভাবে? তাহলে ইংল্যান্ডের এক মিডিয়ার বদৌলতে পড়ুন, ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ আর্চারের গল্প।

বিজ্ঞাপন

গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ইংল্যান্ডের এ পেসার বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচের সময় যেসব টুইট করেছেন, সেসব টুইটকেই চলতি বিশ্বকাপের নানা ঘটনার সঙ্গে মিলিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। সে রকমই একটা টুইট ছিল, ‘লর্ডসে যেতে চাই।’ ২০১৪ সালের ২৯মে আর্চার করেছিলেন এই টুইট। একেবারেই অন্যকোনো ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে। তাতে কী? মজা করে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আর্চার আগেই জানতেন!

আর্চার আবার যেমন একবার টুইট করেছিলেন, ‘ফাস্ট বোলিংয়ের উপযোগী পিচ দেখে দারুণ লাগছে।’ এই পিচ ছিল হোবার্টের। টুইটটি ছিল গত ডিসেম্বরের। যার সঙ্গে মেলানো হয়েছে সেমিফাইনালের এজবাস্টনের উইকেট।

অদ্ভুতভাবে মিলে গেছে ২০১৩ সালের একটি টুইটও। যেখানে আর্চার শুধু লিখেছিলেন, ‘টু ফর টেন’। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরও সেমিফাইনালে এক সময় ছিল ২/১০। সেই স্কোর মিলিয়ে বলা হয়েছে, আর্চার জানতেন ডেভিড ওয়ার্নার কখন প্যাভিলিয়নে ফিরবেন। ওয়ার্নার আউট হওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে যায় ২/১০।

বিজ্ঞাপন

সেমিতে আর্চারের বল অজি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির হেলমেটে লাগে এবং থুতনি কেটে রক্ত বের হয়। বল লাগার ঘটনাও যেন আগে থেকেই জানতেন আর্চার। তার চার বছর আগের এক টুইট এমন, ‘বলটা কী জোরে হেলমেটে লাগল!’

তবে ফাইনালের পর আর্চারের যে টুইটগুলো প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলো আরও বিস্ময় জাগানিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি এক টুইট লিখেছিলেন, ‘মনে হয় একটি সুপার ওভার হবে।’ গার্ডিয়ান এখন বলছে, এটা ফাইনালের কথা!

সুপার ওভার নিয়ে টুইট করার আরও দুই বছর আগে আরেকটি টুইট তো সবাইকে আকাশ থেকে মাটিতে ফেলবে। ২০১৩’র ১৪ এপ্রিল আর্চার লিখেছিলেন, ‘১৬ ফ্রম ৬!’ অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি লর্ডসের ফাইনালে সুপার ওভার থেকে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য এক ওভারে ১৬ রানই দরকার ছিল।

বার্বাডোজের এই তারকা যে ইংলিশদের হয়ে খেলবেন সেটা বিশ্বকাপের তিনমাস আগেও জানা ছিল না। এই বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় আর্চারের। এর আগে খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে। ক্যারিবীয়দের হয়ে জিতেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও।

এখন প্রশ্ন, ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ আর্চারের এসব বাণী যে ইংল্যান্ডের হয়ে এভাবে খেটে যাবে সেটা কখনো মনে করেছিলেন তিনি নিজে? হয়তো জানতেনই, কারণ- তিনি যে ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’!

Bellow Post-Green View